কামরুল সিকদার, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশনে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কমেছে বিভিন্ন সবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। তবে ধনিয়াপাতা, কাঁচা মরিচ ও মাছের বাজারে এখনো কমেনি দাম।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লালশাক, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, করলা, শসা, লাউ, বরবটি, বেগুন, ঢেঁড়শ ও পটলসহ বিভিন্ন সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। পাশাপাশি অল্প কিছু দোকানে শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপিও উঠতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এক মাস আগে প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৭০-৮০ টাকা, বরবটি, ঢেঁড়শ ও পটল ৪০-৫০ টাকা, পটল, কাঁকরোল ও মুলা ২৫-৩০ টাকা, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙা ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকা, গাজর ৯০ টাকা, লতি ৩৫-৪০ টাকা, করলা ও বেগুন ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়।
এদিকে কাঁচা মরিচ ১৮০ টাকা এবং ধনিয়াপাতা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু খুচরা ২৪-২৫ টাকা কেজি।
সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় উৎপাদন বেড়েছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম আরও কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
সবজি বিক্রেতা আওলাদ বলেন, “পাইকারি বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। দাম কমায় আমরাও কম দামে বিক্রি করছি। এতে ক্রেতারাও স্বস্তিতে সবজি কিনতে পারছেন।”
সবজির পাশাপাশি কিছুটা কমেছে প্রোটিনজাতীয় পণ্যের দামও। ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৬০ টাকা। তবে সোনালি মুরগি ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ খুচরা ৩৮ ও পাইকারি ৩৩ টাকা, চিনি ১০০-১০৫ টাকা, আলু পাইকারি ১৯ টাকা ও খুচরা ২৪ টাকা, চায়না রসুন ১৩০-১৪০ টাকা, দেশি রসুন ৬৮ টাকা, আদা পাইকারি ৯৫-১০০ টাকা এবং খুচরা ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ছালাউদ্দিন বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী সালাউদ্দিন বলেন, বাজারে সয়াবিন তেলের কিছুটা সংকট রয়েছে। বোতলজাত দুই লিটার সয়াবিন তেল ১০৬ টাকা দরে কিনে ১০৮ টাকা গায়ে লেখা মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। খোলা সুপার ১ নম্বর সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা কেজি দরে।
গৃহিণী তাছলিমা বেগম বলেন, “আগের তুলনায় সবজিসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। এখন অনেকটাই নাগালের মধ্যে এসেছে।”
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারে এ স্বস্তি আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। অন্যদিকে ধনিয়াপাতা, কাঁচা মরিচ ও মাছের দাম এখনো ক্রেতাদের স্বস্তি দিতে পারেনি।
মন্তব্য করুন