২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অনুশোচনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান । তিনি বলেছেন, ওই সময়ের পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সমাধান করা সম্ভব ছিল। একইসঙ্গে প্রতিটি মানুষের জীবনের মূল্য সমান বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ‘অফ স্ক্রিন উইথ সায়িদ জামান’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুলাই-আগস্টের ঘটনা নিয়ে অনুশোচনা হয় কি না এবং পরিস্থিতি অন্যভাবে সমাধান করা যেত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব এসব কথা বলেন।
সাকিব বলেন, ‘হ্যাঁ, শতভাগ। প্রতিটা মানুষের জীবন তার এবং তার পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের কেউ এটা অনুধাবন করবে না।’
একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের ওপর যে গভীর প্রভাব পড়ে, সেটিও তুলে ধরেন সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, বাইরে থেকে কেউ একজন মৃত ব্যক্তিকে ভালো বা খারাপ মানুষ হিসেবে স্মরণ করতে পারে, স্বজনদের সমবেদনা জানাতে পারে। কিন্তু ওই ব্যক্তির পরিবারের ওপর নেমে আসা বাস্তব সংকট অনেক গভীর।
সাকিবের ভাষায়, ‘যে পরিবারের ছেলে, মেয়ে, বাপ, মা; যেই মারা যাক, তাদের পরিবারের উপরে কী যায়? সে তো মারাই গেল। কিন্তু সে যদি ওই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হয়, বাকিদের কী একটা অবস্থা!’
প্রতিটি মানুষের জীবনের সমান মূল্য রয়েছে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, কারও পরিবার ধনী বা প্রভাবশালী কি না কিংবা কারও পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য নেই—এসব দিয়ে একটি জীবনের গুরুত্ব নির্ধারণ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘প্রতিটা মানুষের জীবনের অনেক দাম আছে। যার যার জায়গা থেকে সবার সেম। একই দায়বদ্ধতা কিংবা একই রকম মানদণ্ড থাকা উচিত।’
জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে ‘খুবই মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে সাকিব স্বীকার করেন, পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টা যেটা হয়েছে, অবশ্যই ভালোভাবে সমাধান করা যেত।’
তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের ভুল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতার উদাহরণ দিয়ে সাকিব বলেন, কোনো মানুষই সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
সাকিব বলেন, ‘একটা মানুষ যে সব সময় ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, তা না। আমি যদি একটি দলের অধিনায়ক হই, সব সময় আমার সিদ্ধান্ত ভালো হবে না। ভালো হয়, খারাপ হয়। মানুষ হিসেবে কেউই পারফেক্ট না।’
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সে সময় সাকিব আল হাসান ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার এবং আওয়ামী লীগের মনোনীত সংসদ সদস্য। আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান ও নীরবতা নিয়েও সমালোচনা হয়।
সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের ঘটনাকে ফিরে দেখার পাশাপাশি মানুষের জীবনের মূল্য, সিদ্ধান্তের দায়বদ্ধতা এবং পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন সাকিব।
মন্তব্য করুন