এইচ এম নোমান, চরফ্যাশন (ভোলা): ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চর কুকরী-মুকরীর ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সড়ক নির্মাণে রডের পরিবর্তে লোহার নেট বা তারের জাল ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মনুরা বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নির্মাণে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে এমন অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী সিসি বা আরসিসি সড়কের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মাপের রড ব্যবহার করার কথা। কিন্তু সেখানে রডের পরিবর্তে তুলনামূলক সস্তা লোহার নেট বা জিআই তারের জাল ব্যবহার করা হচ্ছে।
সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছে ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছাদিকা আফিয়া ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষের জন্য সড়কটি একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। এ পথ দিয়েই তারা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে যান। একই সঙ্গে মনুরা বাজারে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য ও মাছ পরিবহনের জন্যও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের দাবি, কুকরীর ছোট খালসংলগ্ন নিচু ও উপকূলীয় এলাকায় জোয়ার-ভাটার পানি ওঠানামা করে। এমন এলাকায় নির্ধারিত রডের পরিবর্তে চিকন তারের জাল ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ভারী যানবাহনের চাপ ও নোনা পানির প্রভাবে সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, “সিডিউল মোতাবেকই কাজ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তদারকি কর্মকর্তা মো. কিবরিয়া বলেন, “সড়ক নির্মাণে শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। এর বাইরে অন্য কোনো সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরেজমিনে নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হলে রডের পরিবর্তে তারের জাল ব্যবহারের মতো বিষয়টি হওয়ার কথা নয়। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন