মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরা উপজেলার চর কলাতলী ইউনিয়নে অসহায় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি দখল করে ঘাস বিক্রির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসলেও বর্তমানে জমিগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলাতলী ইউনিয়নের কবির বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. খালেক, হানিফ ও শাহেদসহ কয়েকজন প্রায় ১১ একর ৭০ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলে করে সেখানে ঘাস চাষ করে তা স্থানীয় মহিষ পালনকারীদের কাছে বিক্রি করছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রায় ১০০ একর জমির ঘাস বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযুক্তরা।
এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, গত বছর থেকে তিনি নিজের জমি ভোগদখল করতে পারছেন না। তার জমির ঘাস বিক্রি করা হলেও তাকে কোন টাকা দেওয়া হয়নি।
রহিমা নামের অপর এক ভুক্তভোগী বলেন, চাষের জন্য নিজেদের জমিতে গেলে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। জমির ঘাস বিক্রি করে দেওয়া হলেও তারা কোনো অর্থ পাননি এবং জমিতে চাষাবাদও করতে পারছেন না।
স্থানীয়রা আরও জানান, গত বছর থেকে এসব জমি তরমুজচাষিদের কাছে লিজ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অভিযুক্ত হানিফ গংরা। জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়াই ঘাস বিক্রি ও জমি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে ক্ষোভ বিরাজ করছে ওই এলাকায়। এতে যে কোন সময় সহিংসতা হতেও পারে বলেও ধারণা করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও এমপি নুরুল ইসলাম নয়নের প্রতিনিধি আবদুল খালেক সেলিম মোল্লা বলেন, কেউ দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. খালেক ও শাহেদ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে হানিফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার কাছে থাকা ১০ জনের জমির ঘাস বিক্রি করে সবাইকে টাকা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, তারা ঘাস বিক্রির কোনো টাকা পাননি। জমির মালিকানা, দখল ও ঘাস বিক্রির অর্থের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন