এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ উদ্যোগকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ইতিবাচক আলোচনা।
জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক পত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই কলেজটি সরকারিকরণের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন মনপুরার মানুষ।
কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন-এর প্রতি শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আলম শাহীন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমউদ্দীন আলমের মাতার নামে প্রতিষ্ঠিত মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এটি তাঁর রাজনৈতিক উদারতা, দূরদর্শিতা ও জনকল্যাণমুখী নেতৃত্বের পরিচায়ক।
তিনি বলেন, কলেজটি সরকারি হলে মনপুরার নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার মান বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ ডা. কামাল উদ্দিন বলেন, মনপুরার নারীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারিকরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দ্বীপ উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন দায়িত্ব গ্রহণের পর চরফ্যাশন ও মনপুরার শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারিকরণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে চরফ্যাশন ফাতেমা-মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়, চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মনপুরা দক্ষিণ সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সরকারিকরণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল আলম শাহীন বলেন, "মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় কলেজ পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা মনপুরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।"
তিনি আরও বলেন, সরকারিকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মনপুরার নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সুদৃঢ় হবে এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
স্থানীয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ সরকারিকরণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি হবে না, বরং দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের অসংখ্য নারী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
মন্তব্য করুন