মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরায় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকার, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এ সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়বেন উপজেলার হাজারো জেলে। এতে জেলে পরিবারগুলোর আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে দেখা দিতে পারে আর্থিক সংকট। এ পরিস্থিতিতে জেলে পরিবারগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) থেকে মনপুরায় জেলে পরিবারের মধ্যে সরকারি চাল বিতরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে সরকারি এ খাদ্য সহায়তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রকৃত জেলে পরিবারগুলো যেন কোনোভাবেই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়। একই সঙ্গে জেলে তালিকায় অনুপযুক্ত বা প্রকৃত জেলে নন—এমন কেউ যাতে সরকারি চাল না পান, সেটিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে বিভিন্ন সরকারি সহায়তার তালিকা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তাই এবার জেলে তালিকা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত জেলেদের হাতে সরকারি চাল পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবিব বলেন, “আমরা জেলেদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত জেলে পরিবারের হাতে সরকারি সহায়তার চাল তুলে দেওয়ার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো প্রকৃত জেলে তালিকার বাইরে থাকেন, তাহলে তাকে যাচাই-বাছাই করে জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, “যদি কেউ প্রকৃত জেলে না হয়ে জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকেন—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা আশা করি, প্রকৃত জেলে পরিবারই সরকারি চাল পাবে।”
এদিকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে মাছ ধরতে না পারায় জেলেদের আয়-রোজগার বন্ধ থাকবে। ফলে এ সময়ে সরকারি খাদ্য সহায়তা তাদের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা শুরুর পরপরই যেন তারা সময়মতো সরকারি সহায়তা পান।
স্থানীয়দেরও দাবি, প্রকৃত জেলে শনাক্তকরণ, তালিকা যাচাই-বাছাই এবং চাল বিতরণের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যাতে সরকারি সহায়তা না পান এবং প্রকৃত কোনো জেলে যাতে তার প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এখন প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া চাল বিতরণ কার্যক্রমে প্রকৃত জেলে পরিবারগুলো সময়মতো তাদের প্রাপ্য সরকারি সহায়তা পায় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন