ইব্রাহিম আকতার আকাশ: প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও বাবা-মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে উঠেছিল ছয় বছরের শিশু জান্নাতুল ইসলাম রাফা। হয়তো স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলবে, মায়ের ক্লাস শেষে আবার বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরবে—এমনই ছিল স্বাভাবিক দিনের প্রত্যাশা। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই কেড়ে নিল সেই ছোট্ট প্রাণ। বাবা-মায়ের সঙ্গে আর কখনো স্কুলে যাবে না রাফা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের বৈদ্যেরপুল এলাকায় পিকআপভ্যান ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাফা নিহত হয়। এ ঘটনায় তার বাবা-মা আহত হয়েছেন।
নিহত জান্নাতুল ইসলাম রাফা বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট এলাকার ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার মেয়ে। তার মা লালমোহন উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে মায়ের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার জন্য বাবা-মায়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ওঠে রাফা। মোটরসাইকেলটি বৈদ্যেরপুল এলাকায় পৌঁছালে পাশের একটি সড়ক থেকে একটি পিকআপভ্যান হঠাৎ মহাসড়কে উঠে আসে। এ সময় পিকআপভ্যানটির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রাফাসহ মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রাফাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই দুর্ঘটনায় আহত তার বাবা-মাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাফার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ছোট্ট রাফার হাসি-আনন্দে মুখর থাকত পথ, সেই পথেই আজ থেমে গেল তার জীবন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা পিকআপভ্যানটি আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও পিকআপভ্যানটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পিকআপভ্যানের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চ্যানেল ভোলাকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পিকআপভ্যানটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মন্তব্য করুন