মো. সামিরুজ্জামান: দাদার কাছে ভবানীপুরের গল্প শুনতে শুনতেই বড় হয়েছি। সেই গল্পে ছিল একটি বাড়ি, বড় উঠান, উঠানের এক পাশে গাছ, অন্য পাশে পুকুর। ছিল নদী, ফসলের মাঠ আর আত্মীয়স্বজনের ভিড়। একই আকাশের নিচে, পাশাপাশি ঘরে ও কাছাকাছি উঠানে বেড়ে ওঠা একটি বড় পরিবার।
দাদার গল্পে ভবানীপুর ছিল খুব আপন একটি জায়গা। এতটাই আপন যে, কখনো কখনো মনে হতো, বুঝি সেখানে গিয়েছি। সেই বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়েছি, নদীর পাড়ে হেঁটেছি, দূর থেকে নৌকা দেখেছি।
অথচ সত্যিটা অন্য রকম। আমি কোনো দিন ভবানীপুর দেখিনি।
আমার জন্মের বহু আগেই মেঘনা নদী সেই জনপদকে নিজের বুকের ভেতর টেনে নিয়েছে। তাই ভবানীপুর আমার কাছে দেখা কোনো জায়গা নয়; এটি একটি শোনা জায়গা, এমন এক স্মৃতি যা আমার নিজের নয়, অথচ আমার পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
আমার দাদার বাবার বাড়ি ছিল ভোলার দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুরে। একসময় সেখানে ছিল বসতভিটা, মানুষের বসবাস ও পরিচিত মুখ। তারপর একদিন নদী এগিয়ে আসে। একটু একটু করে মাটি সরে যায়, ছোট হতে থাকে উঠান। ঘরের সঙ্গে নদীর দূরত্ব কমতে কমতে একসময় আর কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে না।
বাড়িটি চলে যায় নদীর ভেতর।
তারপর পরিবারও চলে যায়। নতুন ঠিকানা হয় পটুয়াখালীতে। সেখানে আবার ঘর ওঠে, সংসার হয়, সন্তান জন্ম নেয়। জীবন নিজের নিয়মে এগিয়ে যায়। কিন্তু যে মাটি থেকে একটি পরিবারের গল্প শুরু হয়েছিল, সেই মাটির কাছে আর ফিরে যাওয়া হয়নি।
নদীভাঙনের সবচেয়ে নির্মম দিক সম্ভবত এটাই—এটি মানুষকে শুধু ঘর থেকে সরিয়ে দেয় না, অতীত থেকেও দূরে সরিয়ে দেয়।
একটি বাড়ি হারালে মানুষ অন্য জায়গায় নতুন বাড়ি তুলতে পারে। নতুন জমি কিনতে পারে। কিন্তু যে উঠানে বাবা খেলেছেন, যে গাছের ছায়ায় দাদা বসেছেন, যে পুকুরে পরিবারের শিশুরা সাঁতার শিখেছে—সেই জায়গাটি নদী নিয়ে গেলে তার কোনো বিকল্প তৈরি হয় না।
মেঘনা আমাদের সেই বিকল্পহীন জায়গাটিই কেড়ে নিয়েছে।
নদী শুধু বাড়িঘর ভাঙেনি, ছড়িয়ে দিয়েছে আত্মীয়স্বজনকেও। একসময় যারা পাশাপাশি থাকতেন, নদীভাঙনের পর তারা ছড়িয়ে পড়েছেন ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কারও সঙ্গে যোগাযোগ থেকেছে, কারও সঙ্গে কমেছে, আবার কারও সঙ্গে সম্পর্ক একসময় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।
আমাদের পরিবারের গল্পেও সেই বিচ্ছিন্নতার ছাপ রয়েছে।
এখন এমন আত্মীয় আছেন, যাদের নাম শুধু দাদার মুখে শুনেছি, কখনো দেখা হয়নি। এমন মানুষও আছেন, যাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক আছে, কিন্তু পরিচয়ের সম্পর্ক নেই। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে জানেই না, তাদের পূর্বপুরুষের বাড়ি কোথায় ছিল।
একসময় যারা ছিলেন প্রতিবেশী, তারা হয়ে গেছেন দূরের মানুষ। আপনজনদের সঙ্গে সম্পর্ক এখন অনেকের কাছে শুধু পারিবারিক স্মৃতি।
নদী তাই ভিটেমাটির পাশাপাশি আত্মীয়তার মানচিত্রও ভেঙে দিয়েছে।
ভবানীপুরের এই গল্প শুধু আমার পরিবারের নয়। এটি ভোলার বহু পরিবারের গল্প।
ভোলা এমন এক ভূখণ্ড, যার অস্তিত্বই নদীর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এখানে নদী যেমন নতুন মাটি গড়ে, তেমনি কখনো সেই মাটিই কেড়ে নেয়। একদিকে চর জাগে, অন্যদিকে বসতি ভাঙে। কোথাও মানুষ নতুন জমিতে ঘর তোলে, আবার কোথাও পুরোনো ঘরের শেষ চিহ্নটুকুও হারিয়ে যায়।
দৌলতখানের ইতিহাসেও নদীভাঙনের দীর্ঘ ছায়া রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪৫ সালে ভোলা মহকুমা প্রতিষ্ঠার সময় এর কেন্দ্র ছিল দৌলতখান। পরে মেঘনার ভাঙনে ১৮৭৬ সালে মহকুমা সদর দপ্তর দৌলতখান থেকে বর্তমান ভোলা শহরে স্থানান্তর করা হয়।
ভবানীপুর ইউনিয়নের মানচিত্রও দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে বদলে গেছে। ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে ভাঙন তীব্র হতে থাকে এবং ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে তা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। একইভাবে নদীভাঙনে হাজিপুর ইউনিয়নও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি মধ্য হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার তথ্যও রয়েছে।
গত পাঁচ দশকের বিভিন্ন হিসাব ও গবেষণায় বলা হয়েছে, এ সময়ে ভোলার মূল ভূখণ্ডের প্রায় ২৫৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা মেঘনা ও তেঁতুলিয়ার গর্ভে বিলীন হয়েছে। জেলার প্রায় ৮০টি পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙনের কথাও উঠে এসেছে।
রাজাপুর ইউনিয়নের ২০টি মৌজার মধ্যে ১৫টি এবং পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চারটি মৌজা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার তথ্য রয়েছে।
সংখ্যাগুলো বড়। কিন্তু সংখ্যার ভেতরের গল্পগুলো আরও বড়।
২৫৭ বর্গকিলোমিটার মানে শুধু মানচিত্রের একটি অংশ ছোট হয়ে যাওয়া নয়। এর মধ্যে আছে অসংখ্য মানুষের বাড়ি, কৃষকের জমি, কোনো মায়ের রান্নাঘর, কোনো শিশুর প্রথম স্কুল, কোনো বৃদ্ধের শেষ আশ্রয়।
একটি গ্রামের নাম হয়তো সরকারি নথিতে থাকবে। কিন্তু গ্রামের মানুষ যদি ছড়িয়ে পড়ে, ঘর যদি নদীতে চলে যায়, বাজার ভেঙে যায়, স্কুল অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়—তাহলে সেই গ্রামের সামাজিক জীবন আর আগের মতো থাকে না।
বদলে যায় মানুষের বসতি, সম্পর্ক ও স্থানীয় সংস্কৃতি। শেষ পর্যন্ত বদলে যায় একটি জনপদের পরিচয়।
নদী কত দ্রুত নিজের সীমানা বদলায়, তার বৈজ্ঞানিক প্রমাণও রয়েছে।
২০২১ সালে Regional Studies in Marine Science জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১৯৮৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় ভোলা দ্বীপের পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ২৪৯ মিটার পর্যন্ত তীরভাঙনের হার পাওয়া যায়।
নদীর প্রবাহ, জোয়ার-ভাটা, উজানের পানির চাপ, পলি পরিবহন ও নদী ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন বিষয়কে ভাঙন ও চর গঠনের সঙ্গে সম্পর্কিত করা হয়েছে ওই গবেষণায়।
২৪৯ মিটার—কাগজে সংখ্যাটি হয়তো খুব বেশি মনে হয় না। কিন্তু নদীপাড়ের একজন মানুষের কাছে এটি মানে ঘর থেকে নদীর দূরত্ব কমে যাওয়া। মানে উঠানের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নদীকে আরও কাছে দেখা।
ভাঙনের মানুষ জানে, নদী কখনো নোটিশ দিয়ে আসে না।
একদিন নদী দূরে থাকে। পরদিন পাড়ের মাটি ফেটে যায়। এরপর গাছ পড়ে, রাস্তা ভাঙে। এক সকালে মানুষ বুঝতে পারে—তার সামনে আর কোনো মাটি নেই।
শুধু নদী।
মেঘনা ও তেঁতুলিয়া থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ ও উদ্বেগ রয়েছে। কোথাও চর কেটে নেওয়া, কোথাও নদীর তীরের কাছ থেকে বালু তোলার অভিযোগ পাওয়া যায়।
তবে নদীভাঙনের প্রতিটি ঘটনাকে শুধু বালু উত্তোলনের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মেঘনা একটি অত্যন্ত গতিশীল নদীব্যবস্থা। এর ভাঙন ও চর গঠনের পেছনে নদীর প্রবাহ, পলি, জোয়ার-ভাটা, উজানের পানির চাপ ও নদীর তলদেশের গঠনসহ নানা প্রাকৃতিক কারণ কাজ করে।
তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—নদীর তলদেশে মানুষের হস্তক্ষেপ কতটা নিরাপদ?
বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নদীর তলদেশের গভীরতা ও ঢালের পরিবর্তনের সঙ্গে তীরের স্থিতিশীলতার সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। চরের গা ঘেঁষে অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশের ভারসাম্য বদলে গেলে তীরের মাটিতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
তাই বালু উত্তোলনের বিষয়টি শুধু অর্থনীতি বা নির্মাণসামগ্রীর প্রশ্ন নয়; এটি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
আজ যে চরকে শুধু বালু ও কাদার বিস্তার মনে হয়, কিছুদিন পর সেখানে ঘাস জন্মায়। ঘাসের ওপর গবাদিপশু চরে, জলাভূমিতে মাছ আসে, শীতকালে দূরদেশ থেকে পাখি আসে। মানুষও সেখানে অস্থায়ী বসতি গড়ে।
রামদেবপুর, বারাহীপুর, মধুপুর ও বৈরাগীর চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে বালু উত্তোলনের কারণে ঘাস ও তৃণভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে। বৈরাগীর চরে প্রায় ৬৫০টি মহিষের একটি বাথান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানা গেছে।
একটি চর তাই শুধু মানুষের জমি নয়। চরের ঘাসের ওপর নির্ভর করে বাথান, নদীর তলদেশের ওপর নির্ভর করে মাছের জীবন, জলাভূমির ওপর নির্ভর করে পাখি। আর পুরো ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে মানুষ।
মেঘনা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইলিশের আবাস ও প্রজননক্ষেত্রগুলোর একটি। নদীর তলদেশে অতিরিক্ত যান্ত্রিক কর্মকাণ্ড ও পলি পরিবেশের পরিবর্তন জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে।
ভাঙন ঠেকাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ রক্ষায় প্রায় ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, অস্থায়ী জিওব্যাগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
কিন্তু নদীর সময় আর মানুষের প্রশাসনিক সময় এক নয়।
একটি প্রকল্প অনুমোদন পেতে সময় লাগে। অর্থ বরাদ্দ লাগে। কাজ শুরু হতেও সময় লাগে। কিন্তু নদীর ভাঙনের জন্য কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
বর্ষার একটি রাতই যথেষ্ট।
একটি ঘর সরিয়ে নিতে হতে পারে। একটি গাছ পড়ে যেতে পারে। একটি রাস্তা নদীতে চলে যেতে পারে। একটি পরিবারকে আবারও বলতে হতে পারে—চল, এবার অন্য কোথাও ঘর করি।
এই ‘অন্য কোথাও’ খুঁজতে খুঁজতেই কত পরিবার তাদের নিজস্ব ঠিকানা হারিয়েছে, তার হিসাব হয়তো কোনো সরকারি নথিতে নেই।
নদীভাঙনের খবর করতে গিয়ে বহুবার নদীর পাড়ে দাঁড়িয়েছি। ক্যামেরার সামনে মানুষের চোখের পানি দেখেছি। নিজের হাতে গড়া ঘর ভেঙে মানুষকে বাঁশ খুলে নিতে দেখেছি। দেখেছি, একটি পরিবার তার শেষ সম্বলটুকু নৌকায় তুলে অন্য কোথাও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কিন্তু ভবানীপুরের গল্প আমাকে অন্যভাবে স্পর্শ করে।
কারণ সেখানে আমি অন্য কারও ইতিহাস দেখি না।
আমি দেখি নিজের ইতিহাস।
দাদার মুখে শোনা সেই বাড়ির কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে উঠানের গল্প, আত্মীয়স্বজনের কথা। তারপর নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে মনে হয়—যে মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আজ অন্য কারও ঘর, সেটিও কি একদিন নদীর নিচে চলে যাবে?
নাকি কোনো একদিন আমার দেখা কোনো জনপদও শুধু গল্প হয়ে থাকবে?
এই প্রশ্নের উত্তর জানি না।
শুধু জানি, ভবানীপুর আজ আমার চোখে দেখা কোনো জায়গা নয়। অথচ সেটি আমার ভেতরে বেঁচে আছে—দাদার কণ্ঠে, পরিবারের গল্পে, পুরোনো স্মৃতিতে।
আর নদীর পাড়ে দাঁড়ালে সেই অদৃশ্য ভবানীপুর যেন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
একটি নদী যখন ভাঙে, প্রথমে মাটি ভাঙে। তারপর ঘর, রাস্তা, বাজার, মানুষের ঠিকানা।
কিন্তু এরও পরে যে জিনিসটি ভাঙে, তার কোনো দৃশ্যমান ছবি নেই।
সেটি হলো মানুষের শেকড়।
একটি পরিবার অন্য জায়গায় গিয়ে নতুন ঘর তুলতে পারে। সন্তান নতুন স্কুলে পড়তে পারে। নতুন জমিতে চাষ হতে পারে। নতুন বাজারে দোকান বসতে পারে।
কিন্তু পূর্বপুরুষের উঠান ফিরিয়ে আনা যায় না। ফিরিয়ে আনা যায় না সেই গাছ, যার নিচে দাদা বসতেন। ফিরিয়ে আনা যায় না সেই পুকুর, যেখানে পরিবারের শিশুরা খেলত। ফিরিয়ে আনা যায় না পাশাপাশি থাকা সেই বাড়িগুলো, যেখানে প্রতিটি দরজা খুললেই পরিচিত মুখ দেখা যেত।
তাই ভবানীপুর আমার কাছে একটি হারিয়ে যাওয়া জায়গার চেয়েও বেশি কিছু।
এটি মনে করিয়ে দেয়—নদী শুধু ভূগোল বদলায় না; মানুষের জীবনও বদলে দেয়।
একটি নদী যখন একটি জনপদকে গিলে নেয়, তখন শুধু কয়েক একর জমি হারায় না; হারায় একটি সামাজিক ইতিহাস।
সেই ইতিহাসের কিছু অংশ অবশ্য বেঁচে থাকে মানুষের মুখে মুখে।
দাদার মুখে শোনা ভবানীপুরও তেমনই একটি ইতিহাস।
আমি সেই ভবানীপুর কোনো দিন দেখিনি। তবু মনে হয়, আমি তাকে চিনি।
হয়তো এটাই শেকড়ের সবচেয়ে আশ্চর্য শক্তি—মাটি হারিয়ে গেলেও তার স্মৃতি থেকে যায়।
মেঘনা আমাদের বাড়ি নিয়ে গেছে। ঠিকানা নিয়ে গেছে। আত্মীয়তার অনেক পথ মুছে দিয়েছে।
কিন্তু ভবানীপুরকে পুরোপুরি মুছে দিতে পারেনি।
কারণ ভবানীপুর এখন আর শুধু কোনো মানচিত্রে নেই।
ভবানীপুর আছে আমাদের গল্পে।
আর যতদিন সেই গল্প বলা হবে, ততদিন নদীর বুকের নিচে হারিয়ে যাওয়া সেই বাড়িটিও কোথাও না কোথাও বেঁচে থাকবে।
মন্তব্য করুন