সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজু ফারজানা শারমীন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এসব কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আটজন কর্মকর্তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, সেবার মানোন্নয়ন এবং সুবিধাভোগীদের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান এবং মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নূরমহল আশরাফী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অসহায় মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া, অসহায় ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন ভাতা, পুনর্বাসন ও সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন, বরং দেশের সম্পদ। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
মাদকবিরোধী সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আপনি যতই উন্নয়ন করেন না কেন, ঘরে ঘরে যদি মাদকাসক্ত সন্তান থাকে তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল পাওয়া যাবে না। আপনার সন্তান যদি আপনার জন্য সম্পদ হয়, তাহলে দেশের জন্যও সম্পদ; আর যদি বোঝা হয়, তাহলে দেশের জন্যও বোঝা।”
তিনি আরও বলেন, একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ছয়জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপকারভোগীরা সরকারের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন