স্প্যানিশ
ফুটবল বিস্ময় লামিন ইয়ামালকে নিয়ে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। মাঠে বল পায়ে
তার অসাধারণ পারফরম্যান্স যেমন ফুটবল বিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছে, তেমনি খেলার
মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন কারণে তিনি উঠে এসেছেন সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের মূল আলোচনায়। কখনও বয়সে ৩ বছরের বড়
প্রেমিকা, আবার কখনও কোমরের নিচে পোশাক পরার স্টাইল। সাফল্য, ব্যক্তিগত
জীবন আর বিতর্কের এই বৈচিত্র্যময় মেলবন্ধনে তরুণ এই ফুটবল বরপুত্রকে ঘিরে
উত্তেজনা যেন এখন তুঙ্গে।
বিশ্বকাপ
উদযাপনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্প্যানিশ ফুটবল তারকা লামিন ইয়ামালের প্যান্ট
কোমরের নিচে দেখা গেছে। পোশাক স্টাইল নিয়ে ভক্ত এবং সমালোচকদের চর্চার
কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। তবে এই ধরনের পোশাক পরিধান বিশ্বজুড়ে ‘স্যাগিং’ নামে
পরিচিত।
ট্রফি
উদযাপন, দলের সাথে উল্লাস, বিভিন্ন স্টেজ ইভেন্ট কিংবা স্টেডিয়ামের
গ্যালারিতে ক্যাজুয়াল আড্ডার মুহূর্ত- সবখানেই দেখা গেছে ইয়ামালের পরা
শর্টস বা ট্রাউজার কোমরের বেশ খানিকটা নিচে অবস্থান করছে।
সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,
চলাফেরা করা কিংবা কারও সঙ্গে কোলাকুলির সময়ে তার ঢিলেঢালা প্যান্ট নিচে
নেমে আসায় ভেতরে পরা অন্তর্বাস (আন্ডারওয়ার)-এর ওপরের অংশ স্পষ্ট দৃশ্যমান
হয়ে ওঠে। এ বিষয়টি নজর এড়ায়নি নেটিজেনদের। অনলাইন জগতে এ নিয়ে দুই ধরনের
প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে- একদল এটিকে কেবলই আধুনিক তরুণ সংস্কৃতির ক্যাজুয়াল
ফ্যাশন হিসেবে দেখছেন, আর অন্যদল নানা সামাজিক, কৌতূহল উদ্দীপক কিংবা
ব্যক্তিগত মন্তব্য ছুঁড়ছেন।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ামালের এই প্যান্ট পরার ধরনের পেছনে কোনো অলৌকিক বা গোপন কারণ নেই।
‘স্যাগিং’
হলো প্যান্ট বা শর্টস পরার এমন একটি বিশেষ শৈলী, যেখানে পোশাকটি স্বাভাবিক
কোমর থেকে বেশ কিছুটা নিচে ঝুলিয়ে পরা হয়। পোশাকের ঝুল নিচে থাকার কারণে
কোমরের ভেতরের অন্তর্বাস কিংবা কোমর-নিতম্বের অংশ অনাবৃত থেকে যায়। এটি
মূলত আমেরিকান স্ট্রিটওয়্যার সংস্কৃতির একটি অনন্য নিদর্শন।
যেভাবে তৈরি হয়েছিল এই স্টাইল
১৯৯০-এর
দশকে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারগুলোতে কারাবন্দিদের বেল্ট পরতে দেয়া হতো না,
যাতে তারা নিজেদের বা অন্য কাউকে আঘাত করতে কিংবা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে
না পারে। জেলের সরবরাহ করা ভুল সাইজের ঢিলেঢালা প্যান্টগুলো বেল্ট না থাকায়
বন্দিদের কোমর থেকে নিজে থেকেই নিচে ঝুলে থাকত।
জেল থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা
পরবর্তীতে বাইরে এসেও একইভাবে পোশাক পরা অব্যাহত রাখেন। ৯০-এর দশকে
আমেরিকান র্যাপার ও হিপ-হপ শিল্পীরা এটিকে সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে এক
ধরনের বিদ্রোহ এবং স্বাতন্ত্র্যসূচক ‘স্ট্রিটওয়্যার’ ফ্যাশন হিসেবে গ্রহণ
করেন।
পরে
র্যাপার ও পপ তারকাদের হাত ধরে এই স্টাইল বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
স্কেটবোর্ডিং সংস্কৃতি থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত বাস্কেটবল ও ফুটবল
তারকারাও ধীরে ধীরে ক্যাজুয়াল লুকে এটি গ্রহণ করতে শুরু করেন।
‘স্যাগিং’
স্টাইলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- ওভারসাইজড বা আলগা পোশাক; এতে
স্বাভাবিক মাপের চেয়ে কিছুটা বড় ও ঢিলেঢালা পোশাক নির্বাচন করা হয়। বেল্ট
ব্যবহারে শিথিলতা; বেল্ট ব্যবহার না করা অথবা খুব ঢিলে করে রাখা, যাতে
নড়াচড়াতে পোশাক অনায়াসে নিচে নেমে যেতে পারে। শারীরিক আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য;
পেশাদার অ্যাথলেট ও ফুটবলাররা খেলার ধকলের বাইরে নিজেদের শরীরে অতিরিক্ত
স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে ওভারসাইজড পোশাক ব্যবহার করেন। হাঁটা, দৌড়ানো বা
নাচের সময় এই পোশাকগুলো কিছুটা নিচে নামাই স্বাভাবিক।
কোমরের নিচে ট্রাউজার পরা বা ফ্যাশন
সচেতনতা নিয়ে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার নিজে কখনোই কোনো আনুষ্ঠানিক
বক্তব্য বা মন্তব্য করেননি। ফলে এটিকে কোনো বিশেষ প্রতীকি অর্থ বা বার্তা
প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ক্রীড়া
বিশ্লেষকদের মতে, একজন বৈশ্বিক তারকা হয়ে ওঠার কারণে লামিন ইয়ামালের পোশাক
পরার ধরন থেকে শুরু করে প্রতিটি নড়াচড়াই এখন অনুরাগী ও ট্রোলাদের কড়া
নজরদারিতে রয়েছে। তবে শত আলোচনা-সমালোচনার মাঝেও এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড
প্রমাণ করেছেন, তার মূল মনোযোগ মাঠের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ।