ইব্রাহিম আকতার আকাশ: দীর্ঘ ২৬ বছর কারাভোগের পর অবশেষে আগামীকাল রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তি পাচ্ছেন ভোলার বহুল আলোচিত দুলাল হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি শাহাবুদ্দিন। এর আগে গত ১৭ আগস্ট একই মামলার ১ নম্বর আসামি কালু কারাগার থেকে মুক্তি পান।
২০০০ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন শাহাবুদ্দিন। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রথমে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হলেও পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে তা পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সাজা ভোগ করেই জীবনের প্রায় ২৬টি বছর কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিরোধপূর্ণ জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে লতিফ মেম্বারের ছেলে কালু ও সোহরা আনোয়ারাবাদ হোসেন ঢাড়ীর ছেলে দুলালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় কালুর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহযোগী রুহুল আমিনের ছেলে শাহাবুদ্দিন।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুলাল ঢাড়ী নিহত হন। ঘটনার পর ওই রাতেই দুলালের ভাই মিলন মেম্বার বাদী হয়ে কালু ও শাহাবুদ্দিনসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায় ও আপিলের মাধ্যমে মামলার অধিকাংশ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করে মুক্তি পেলেও কালু ও শাহাবুদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল ছিল। পরে উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দীর্ঘ ২৬ বছর পর গত ১৭ আগস্ট সকালে ভোলা কারাগার থেকে মুক্তি পান মামলার ১ নম্বর আসামি কালু। কারাগারের ফটকে তাকে ফুলের মালা পরিয়ে এবং একাধিক মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল নিয়ে স্বজনদের বরণ করে নেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনাও হয়।
এবার একই মামলার ২ নম্বর আসামি শাহাবুদ্দিনের মুক্তির পালা। তবে কালুর কারামুক্তিকে ঘিরে বরণ আয়োজন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হওয়ায় শাহাবুদ্দিনের মুক্তির সময় তেমন কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন রাখা হচ্ছে না বলে চ্যানেল ভোলাকে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
সূত্রটি জানায়, কালুর মুক্তির পর তাকে ফুলের মালা ও গাড়িবহর নিয়ে বরণ করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসায় শাহাবুদ্দিনের কারামুক্তি তুলনামূলকভাবে নীরবভাবেই সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বজনদের পক্ষ থেকেও বড় কোনো আয়োজন না রাখার বিষয়ে সতর্কতা রয়েছে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে সাজা পরিবর্তন এবং প্রায় ২৬ বছর কারাভোগের পর একই মামলার দুই আসামির ধারাবাহিক মুক্তি—সব মিলিয়ে দুলাল হত্যা মামলাটি আবারও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।
তবে শাহাবুদ্দিনের মুক্তির পর তাকে কীভাবে স্বজনরা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আগ্রহ রয়েছে। দীর্ঘ কারাজীবনের পর একজন বন্দির স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাকে ঘিরে কোনো আয়োজন যেন নতুন করে বিতর্কের জন্ম না দেয়—সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
মন্তব্য করুন