পিঠে ছোট বোনকে বেঁধে কাদামাখা পথে হেঁটে চলছে এক বালক। শরীরজুড়ে কাদা, চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ। তবু থামছে না। চারপাশে তাকিয়ে যেন খুঁজে চলেছে মা-বাবাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ভিডিও সাম্প্রতিক সময়ে অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বালকটির পিঠে একটি ছোট শিশু বাঁধা। শিশুটিকে দুধের শিশু বলেই মনে হচ্ছে। সে কাঁদছিল। তবে কী কারণে তার কান্না, তা ভিডিও দেখে বোঝার উপায় নেই। অন্যদিকে বালকটির চলাফেরায় স্পষ্ট ক্লান্তি থাকলেও ছোট বোনকে নিয়ে সে এগিয়ে যাচ্ছিল।
ভিডিওটি প্রকাশ করা কয়েকজন ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, এটি নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগের সময় ধারণ করা। তাঁদের ভাষ্য, বালকটি বোনকে সঙ্গে নিয়ে মা-বাবার সন্ধান করছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দুই শিশুর পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ শিশুটির সাহসের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ দ্রুত তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেছেন।
তবে ভিডিওটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এর উৎস ও প্রেক্ষাপট এখনো নিশ্চিত নয়। ভিডিওটি ঠিক কোথায় এবং কখন ধারণ করা হয়েছে, কিংবা দুই শিশুর পরিচয় কী, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে এটিকে নেপালের সাম্প্রতিক দুর্যোগের দৃশ্য হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তারপরও ভিডিওটির দৃশ্য অনেকের মনে করিয়ে দিয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক ছবির কথা। ১৯৪৫ সালে জাপানের নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার পর মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জো ও’ডনেল একটি ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিতে এক বালককে পিঠে তার মৃত ছোট বোনকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে ছবিটি যুদ্ধের নির্মমতার অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেপালের ভিডিওটির সঙ্গে সেই ছবির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। পরিস্থিতিও এক নয়। তবে পিঠে ছোট বোনকে বহন করে এগিয়ে চলা একটি শিশুর দৃশ্যই অনেকের মনে নাগাসাকির সেই ছবির স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।
ভিডিওটি ঘিরে আলোচনায় এসেছে ‘গ্রেভ অব দ্য ফায়ারফ্লাইজ’ সিনেমাটির কথাও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই জাপানি অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রে ভাই সেতা ও ছোট বোন সেতসুকোর বেঁচে থাকার সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। নেপালের ভিডিওতে দেখা ভাই-বোনের দৃশ্যের সঙ্গে সেই গল্পের আবেগগত মিল খুঁজে পেয়েছেন অনেকে।
মন্তব্য করুন