গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, তদন্তে কোনো ধরনের ভুল, অসঙ্গতি বা অস্পষ্টতা মেনে নেওয়া উচিত নয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য ও দ্ব্যর্থহীন প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।
শফিকুল আলম বলেন, দুই সন্দেহভাজনই একই সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বলে জানা যাচ্ছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য আরও কঠোর, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা এবং অকাট্য তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি গভীর ট্র্যাজেডি। গত কয়েক দশকে এই সম্প্রদায় ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে গেছে। ফলে রংপুরে পুলিশের তদন্তে কোনো ভুল বা ব্যর্থতা হলে তা পুরোনো ক্ষতকে আবারও উসকে দিতে পারে এবং মানুষের মনে যৌক্তিক সন্দেহ তৈরি করতে পারে।
আস্থা তৈরির জন্য তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও নতুন প্রমাণ সম্পর্কে পুলিশকে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়মিতভাবে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, তদন্তটি যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়কে পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, শনিবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাতে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রোববার ভোরে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই এলাকার দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মন্তব্য করুন