মো. সবুজ/ইব্রাহিম আকতার আকাশ: ভোলার
তজুমদ্দিনে এক নারী ও এক পুরুষকে ‘আপত্তিকর
অবস্থায়’ আটকের
দাবি তুলে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে অপমান অপদস্ত করার ঘটনা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার দিনগত মধ্যরাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান চ্যানেল ভোলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আটককৃতরা হলেন–ঘটনার মূল অভিযুক্ত মো. সজিব (২২) ও তাঁর ভাই মো. রাকিব হোসেন (৩০) এবং একই এলাকার মো. রায়হান (২৫) ও রাশেদ আহমেদ (২৭)। তারা সবাই উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) সকালে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড সোনাপুর সরকারি আবাসন এলাকায় মাহে আলম ও তাসলিমা নামের এক নারীকে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ আটক করার দাবি তুলে তাদেরকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে অপমান অপদস্ত করেন সজিবসহ কয়েকজন যুবক। পরে তাদেরকে তওবা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তা ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ বিষয়টি আমলে নিয়ে মাঠে নেমে রাতভর অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে আটক করেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় অন্যান্য যাঁরা জড়িত আছে, তাদেরকেও আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মাহে আলম বাদী হয়ে অভিযুক্তদের আসামী করে তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেছেন—এমন অভিযোগ থাকলে তার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হওয়া উচিত। কাউকে প্রকাশ্যে অপদস্ত করা, জুতার মালা পরানো কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান চ্যানেল ভোলাকে বলেন, ভিডিও দেখে অভিযুক্তদের শনাক্তের চেষ্টা করেছি। ইতিমধ্যে সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ভোলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহিদুল্লাহ কাওছার চ্যানেল ভোলাকে বলেন, ঘটনাটি দেখার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করতে মাঠে নেমেছে। এ ঘটনায় যাঁরা জড়িত আছে তাদের প্রত্যেককে আটক করা হবে।
মন্তব্য করুন