মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই করার লক্ষ্যে নির্মিত দুটি হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) সড়ক নির্মাণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। এতে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ৫০০ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণের জন্য ১,৩২,৬৭,১২৯.১৩৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন আবু তাহেরের বাড়ি থেকে পূর্বদিকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ১ হাজার মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামীণ টাওয়ারসংলগ্ন রহিম হাফেজের বাড়ি থেকে পশ্চিমে বেড়িবাঁধ মসজিদ পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে ইট দেবে গেছে, সরে গেছে এবং ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বালু ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইট দিয়ে সড়কের ভিত্তি তৈরি করা হয়নি। ফলে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙতে শুরু করে। সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও সড়কগুলোর কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তসলিম বলেন, রাস্তার কাজ শুরুর আগে তিনি ঠিকাদারকে মাটি ভরাট করে রাস্তা উঁচু করার পর ইট বসানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, মাটি ভরাট না করেই এইচবিবি সড়কের কাজ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সড়কটিতে প্রায় ২ লাখ টাকার মাটি ভরাটের একটি প্রকল্প ছিল। তাঁর পরিকল্পনা ছিল আগে মাটি ভরাটের কাজ শেষ করে পরে হেরিংবোন নির্মাণ করা। কিন্তু ঠিকাদার তা না করায় রাস্তা ও পাশের জমির উচ্চতা প্রায় সমান হয়ে গেছে। তাঁর দাবি, এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে পুরো সড়কটি পুনরায় মেরামত করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে ঠিকাদার সড়কটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত করে দেবেন।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্মাণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই যদি বৃষ্টির পানিতে নতুন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে এসব সড়কের স্থায়িত্ব কতটুকু হবে? তারা প্রকল্পটির নির্মাণমান তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সড়ক দুটি মানসম্মতভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন