নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলার মনপুরায় ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জমিতে চাষাবাদে বাধা দিয়ে ঘাস বিক্রির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় ৩১ আগস্ট মনপুরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত তিন সাংবাদিক।
মামলার আসামিরা হলেন—আরটিভির মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি সোহাগ মাহমুদ সৈকত, দৈনিক সকালের সময় ও চ্যানেল ভোলার মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি মো. মেহেদী হাসান এবং দৈনিক দেশের কণ্ঠের মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান।
মামলার বাদী যুবদল নেতা মো. আলাউদ্দিন। মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ আগস্ট মনপুরা থানায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৫ আগস্ট উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কলাতলী ইউনিয়নে ভূমিহীন ও অসহায় মানুষের জমিতে চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করে মহিষ পালকদের কাছে ঘাস বিক্রি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিকরা। পরে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের দাবি, মামলাটি হয়রানিমূলক এবং সংবাদ প্রকাশের কারণে পেশাগতভাবে তাদের চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে ওই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে হামলা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর তিন সাংবাদিক আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে জামিনের আবেদন করেন। ৩১ আগস্ট শুনানি শেষে মনপুরা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিনের পর সাংবাদিকরা বলেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা, অনিয়ম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
তারা বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাবেন তারা।
তবে মামলার বাদী মো. আলাউদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
মন্তব্য করুন