সামরিক কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত তথ্য সাধারণত গোপন রাখে ইসরায়েল। তবে এবার নিজেদের সরকারি ম্যাপিং ওয়েবসাইট ‘গভম্যাপ’-এ ভুলবশত গাজা উপত্যকার ধ্বংসযজ্ঞ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর কয়েকটি গোপন সামরিক স্থাপনার স্পষ্ট স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ হয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ করা একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম নজরে আসে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে তেল আবিব অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়েবসাইট থেকে ছবিগুলো সরিয়ে নেয় এবং সেখানে ঝাপসা ছবি আপলোড করে। তবে এর আগেই এক এক্স ব্যবহারকারী স্পষ্ট ছবিগুলো সংরক্ষণ করেন। পরে ছবিগুলো জিওস্পেশাল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘সোর এটলাস’-এ প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহরের ব্যাপক ধ্বংসচিত্র দেখা যায়। ছবিতে ভবন ও সড়কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও উঠে এসেছে।
এ ছাড়া বাফার জোনের ভেতরে সামরিক যানসহ অন্তত ১১টি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা এবং গাজা সিটির যাইতুন ও জাবালিয়া এলাকায় কয়েকটি সামরিক ঘাঁটির অবস্থানও ছবিতে দৃশ্যমান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের প্রভাবে গাজায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মূল্যায়নে উপত্যকাটির আবাসিক ভবন, স্কুল, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
তবে হতাহতের সংখ্যা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সর্বশেষ পরিমাণ বিভিন্ন উৎসে ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়। ফলে এসব সংখ্যা উল্লেখের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উৎস ও সময়কাল বিবেচনা করা জরুরি।
মন্তব্য করুন