নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলার তজুমদ্দিনে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এক নারীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার বিষয়ে চ্যানেল ভোলায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘বিদেশে লোক পাঠানোর নামে সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা তজুমদ্দিনের মনির’ শীর্ষক সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত মনির।
প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের একাংশ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মনির। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
মনিরের দাবি, তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। কয়েক বছর আগে তজুমদ্দিনের জিয়া উদ্দিনের স্ত্রী নাহিমা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় নাহিমা বেগমের বড় ভাই রাকিবও সৌদি আরবে অবস্থান করতেন।
মনির বলেন, প্রবাসে থাকা রাকিব বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়লে তার বোন নাহিমা বেগমের অনুরোধে তিনি তাকে সহযোগিতা করেন। এ সময় রাকিবকে প্রায় ২ লাখ টাকা দিয়ে সহায়তা করার দাবি করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে নাহিমা বেগমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে জানান মনির। তার ভাষ্য, একপর্যায়ে নাহিমা বেগম ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য তাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেন। ওই অর্থ দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও পরবর্তীতে ব্যবসায় লোকসান হয়।
মনিরের দাবি, ব্যবসায় লোকসানের পর নাহিমা বেগমকে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি অর্থ রাকিবকে সহযোগিতা করার সময় দেওয়া টাকা থেকে সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, টাকা ফেরত ও ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে জানান মনির। এরই জেরে নাহিমা বেগম তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন বলে দাবি তার।
মনির অভিযোগ করেন, “আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করিনি।”
তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তার বক্তব্য না থাকায় ঘটনার একটি পক্ষের অভিযোগই পাঠকের সামনে এসেছে। তাই প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য তিনি নিজের বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে নাহিমা বেগমের অভিযোগের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো বিচারিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে নাহিমা বেগমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি, মনিরের দাবিগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: চ্যানেল ভোলায় প্রকাশিত পূর্বের সংবাদটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও মামলার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছিল। মনিরের দেওয়া ব্যাখ্যায় নতুন তথ্য ও তার বক্তব্য উঠে আসায় পাঠকের অবগতির জন্য তা পৃথকভাবে প্রকাশ করা হলো। মামলার অভিযোগের সত্যতা বা দায়-দায়িত্ব আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়।
মন্তব্য করুন