সরকারি চাকরিজীবীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নবম জাতীয় পে-স্কেলের সুপারিশ অনুযায়ী, পদোন্নতি ছাড়া একই বা সমতুল্য পদে নির্দিষ্ট সময় চাকরি পূর্ণ করলে আগের তুলনায় কম সময়েই প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ১০ বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে ১১তম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পান। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর আরও ছয় বছর পদোন্নতি না হলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে নবম পে-স্কেলের সুপারিশে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৮ বছর করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, একই বা সমতুল্য পদে পদোন্নতি ছাড়া আট বছর পূর্ণ হলে নবম বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর আরও ছয় বছর একই বা সমতুল্য পদে থাকলে সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
দুইবারের বেশি উচ্চতর গ্রেড নয়
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একই পদে একজন কর্মচারী দুইবারের বেশি উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত এই সুবিধা প্রযোজ্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। চতুর্থ গ্রেড বা তার ওপরে থাকা কর্মচারীরা উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে তৃতীয় বা তার ওপরে গ্রেডে যেতে পারবেন না।
এ ছাড়া আগের বেতনস্কেলগুলোতে একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা স্কেল পেয়ে থাকলে নতুন পে-স্কেলে একই পদে আবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না—এমন বিধানও প্রস্তাবে রাখা হয়েছে।
পুরোনো উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের জন্যও বিধান
৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগে একই পদে একজন কর্মচারী যদি মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুবিধা পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর সপ্তম বছরে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আগের সময়ের কোনো বকেয়া বা নতুন গ্রেড অনুযায়ী অতীত সময়ের বেতন পুনর্নির্ধারণের সুবিধা থাকবে না।
এদিকে, আগে টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আদালতের রায় রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে আপিল বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের রিভিউ আবেদন খারিজ করে উচ্চতর গ্রেড সুবিধা-সংক্রান্ত আগের রায় বহাল রাখেন।
তবে এসব পরিবর্তন প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেলের বিধান হিসেবে রয়েছে। চূড়ান্ত গেজেট ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নতুন নিয়মের চূড়ান্ত প্রয়োগ পদ্ধতি স্পষ্ট হবে। বর্তমানে নতুন পে-স্কেলের বেতন নির্ধারণে কর্মচারীর পদ, যোগদানের তারিখ, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডের তথ্য বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন