চ্যানেল ভোলা: ভারতে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর আগে সকাল ৬টায় পানির স্তর ছিল বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচে। শনিবার একই সময়ে তা ছিল বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচে। পানি বাড়া-কমার এই প্রবণতা তিস্তা তীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে। বাদামক্ষেত, আমন ধানের বীজতলা, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
তিস্তাপাড়ের কৃষক সাজু মিয়া বলেন, “তিস্তার পানি বাড়ছে-কমছে। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। পানি আরও বাড়লে আমন ধানের বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাবে।”
গড্ডিমারী গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, “সকাল থেকে পানি বাড়ছে। শুনছি ভারত উজান থেকে পানি ছেড়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে ধানের চারা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।”
ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়ছে। দুপুর ১২টায় পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বলে জানা গেছে। তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন