সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। নবম জাতীয় পে-স্কেলে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামো একবারে নয়, দুই ধাপে কার্যকর করা হতে পারে।
সোমবার সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে নতুন পে-স্কেল নিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বাস্তবায়নের প্রথম বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন বাড়ানোর কথা রয়েছে। পরের বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। নবম পে-স্কেলের সুপারিশ ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং সচিব কমিটির সদস্যরা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেছেন বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ সংশ্লিষ্ট খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা।
এদিকে, পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চলতি বছরের মধ্যেই নতুন পে-স্কেল দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছিলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য যেকোনো সময় নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে নবম পে-স্কেল সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে সুপারিশ বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর হওয়ার সময়সূচিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মন্তব্য করুন