চ্যানেল ভোলা: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাবেক রানার ও সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। রোববার (২১ জুন) ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি গুম, হত্যা ও কথিত ক্রসফায়ারের একাধিক ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন।
ইমরুল কায়েস জানান, ২০১০ সালে র্যাবে কর্মরত অবস্থায় তাকে জিয়াউল আহসানের ব্যক্তিগত রানার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে তিনি জিয়াউলের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে যান এবং একাধিক অভিযানে অংশ নেন।
জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, এক রাতে তাকে নিয়ে টঙ্গী এলাকায় একটি রেললাইনের পাশে একটি বস্তা ফেলে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। বস্তাটি নামাতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ভেতরে একটি মরদেহ রয়েছে। পরে মরদেহটি রেললাইনের ওপর রেখে আসা হয় এবং কিছুক্ষণ পর একটি ট্রেন সেখানে চলে যায়।
তিনি আরও দাবি করেন, জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে সুন্দরবনে পরিচালিত একটি অভিযান ছিল ‘সাজানো’। অভিযানে যাওয়ার পর তারা জঙ্গলের ভেতরে গুলিবিদ্ধ কয়েকটি মরদেহ দেখতে পান। সেখানে জলদস্যুদের ব্যবহৃত বলে দাবি করা বিভিন্ন সামগ্রী এবং একটি ছাগল পাওয়া যায়। পরে ওই ছাগল জবাই করে উপস্থিত কর্মকর্তারা দুপুরের খাবার খান।
বিডিআর বিদ্রোহ-পরবর্তী ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’-এর প্রসঙ্গ টেনে ইমরুল কায়েস বলেন, সে সময় আটক কয়েকজন বিডিআর সদস্যকে গোপনে হত্যা করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ইনজেকশন প্রয়োগ করে এবং কিছু ক্ষেত্রে গুলি করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০১২ সালে পোস্তগোলা এলাকায় একটি অভিযানে ১১ জনকে নদীতে নিয়ে একই কায়দায় হত্যা করা হয়। এছাড়া জাফলং সীমান্তে ভারত থেকে হস্তান্তর করা দুই ব্যক্তিকেও পথিমধ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল বলে তিনি আদালতে জানান।
সাক্ষ্যগ্রহণকালে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্যরা।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলছে।
মন্তব্য করুন