মো মামুন হাজী লালমোহন : ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেব আলীর পরিবারে নেমে এসেছে এক হৃদয়বিদারক বিপর্যয়। একই পরিবারের চারজন সদস্য জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিজেই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, আর বাকি তিন সদস্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও অন্ধত্ব বরণ করে শয্যাশায়ী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই পরিবারের সন্তান মো. হেলাল দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছেন। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনি এখন প্রায় শয্যাশায়ী। এদিকে তার স্ত্রী ময়না বেগম ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ। অন্যদিকে হেলালের মা হামেলা খাতুন ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং বৃদ্ধ বাবা সাহেব আলী স্ট্রোকে পঙ্গু হওয়ার পাশাপাশি হারিয়েছেন চোখের দৃষ্টিশক্তিও।
বন্ধ আয়ের পথ, অনিশ্চিত জীবন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হেলাল। তিনি নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় সংসারের স্বাভাবিক আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের চরম সংকট কাটাতে ঘরের সামনে ছোট একটি চায়ের দোকান দেন তিনি, তবে পুঁজির অভাবে পর্যাপ্ত মালামাল তুলতে পারছেন না। ফলে প্রতিদিনের সামান্য আয় দিয়ে ওষুধ কেনা তো দূরের কথা, ডাল-ভাতের সংস্থান করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চরম আর্থিক অনটনের কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান ব্যক্তিদের দ্রুত এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
যা বলছে উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম বলেন, “একই পরিবারের চার সদস্যের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অসুস্থ ব্যক্তিরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন। বর্তমানে পঙ্গু ও প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন গ্রহণও চালু রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিলে তাদের দ্রুত সরকারি সমাজকল্যাণ কর্মসূচির আওতায় আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
নিজে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েও হেলালের চোখে এখন কেবল বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্ত্রীকে বাঁচিয়ে রাখার আকুতি। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে পরিবারটি হয়তো এই গভীর অন্ধকার কাটিয়ে আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পাবে।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
বিকাশ / নগদ: ০১৭৩২১৮৪৯০৬
মন্তব্য করুন