জুলফিকার তালুকদার, চরফ্যাশন প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ছয় জেলে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে চরে উঠে বনের গাছে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ঝড়ে ট্রলার, জালসহ তাদের জীবিকার শেষ সম্বল ধ্বংস হয়ে গেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চরমানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলুর দোকানসংলগ্ন কাজীর খাল থেকে মাঝি আব্বাসের নেতৃত্বে আল-আমীন, ইউসুফ, সবুজ, নিরব পাটোয়ারী ও সোহেলসহ ছয় জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে মেঘনা নদীতে যান। শিপচর নদীর কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে নদী এবং সৃষ্টি হয় বড় বড় ঢেউ।
একপর্যায়ে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলে জীবন বাঁচাতে ছয় জেলে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে চরজমিন কালির চরে উঠে বনের গাছে আশ্রয় নেন তারা।
খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জেলেদের উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ ট্রলারটির সন্ধানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে চরজমিন কালির চরের বনের মধ্যে ট্রলারটির ভাঙা অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধার করে ট্রলারের টুকরো অংশগুলো তীরে নিয়ে আসা হয়।
ট্রলারের মাঝি আব্বাস বলেন, “ঝড়ের সময় নদী খুব উত্তাল হয়ে যায়। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ভেঙে গেলে আমরা জীবন বাঁচাতে নদীতে নেমে সাঁতরে চরে উঠি। পরে বনের গাছে আশ্রয় নিই। পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে তারা এসে উদ্ধার করেন।”
ট্রলার মালিক মো. মফিজ জানান, ঝড়ে ট্রলারটির প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ট্রলার নির্মাণে আড়ত মালিকের দেনা ও এনজিওর ঋণ রয়েছে। নতুন করে ট্রলার তৈরি বা ক্ষতিগ্রস্ত ট্রলারটি মেরামতের জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কাজী নেছার উদ্দিন বলেন, “মাঝিসহ ছয় জেলে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তারা হারিয়েছেন মাছ ধরার নৌকা, জাল ও জীবিকার প্রধান সম্বল। ঋণের বোঝা নিয়ে তারা এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সরকারি সহায়তা পেলে তারা আবার মাছ ধরার কাজে ফিরতে পারবেন।”
চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জেলে ও নৌকার বিষয়ে আবেদন করা হলে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
মন্তব্য করুন