মনপুরা (উপজেলা) প্রতিনিধি: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রধান ডাকঘরের নতুন ভবন নির্মাণকাজ। ফলে জরাজীর্ণ ভাড়া করা টিনশেড ঘরেই চলছে ডাকঘরটির কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে ডাকসেবা, ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, ২০০২ সালে নদীভাঙনের আশঙ্কায় ডাকঘরের তিনতলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে স্থানীয় রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় নেওয়া আধাপাকা টিনশেড ঘরে চলছে কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে ২০২১ সালে দেড়তলা পাকা ভবন নির্মাণ শুরু হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট ও জরাজীর্ণ ঘরটিতে দুটি কাঠের টেবিল, দুটি ভাঙাচোরা আলমারি ও কয়েকটি চেয়ার রয়েছে। সামনের অংশে দাপ্তরিক কাজ চলে, আর পেছনের অংশে রাত কাটান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বিভিন্ন পরীক্ষার উত্তরপত্রও রাখতে হয় এ ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে।
ডাকঘরটিতে লোকবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও সীমিত কিছু কার্যক্রম ছাড়া অন্যান্য সেবা অপ্রতুল। ফলে চিঠি ও পার্সেল পাঠাতে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করছেন স্থানীয়রা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
ডাকঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. আবু তাহের বলেন, “স্থায়ী পাকা ভবন না থাকায় আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। এ ছাড়া লোকবল সংকটও রয়েছে। নতুন ভবনে আইসিটি কর্নার থাকবে। ভবনটি চালু হলে আধুনিক ও ডিজিটাল সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, মনপুরাবাসীর ডাকসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবন নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও আধুনিক সেবা চালু করা জরুরি।
মন্তব্য করুন