ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য টার্নওভার করের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে কোনো টার্নওভার কর দিতে হবে না।
এদিকে, ২ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে করের হার অর্ধেক করে দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে ৪ কোটি টাকার বেশি টার্নওভার করা প্রতিষ্ঠানকে আগের মতো ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম টার্নওভার কর দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের টার্নওভার করের আওয়াতামুক্ত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এনবিআর।
এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, ছোট ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে কম টার্নওভারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর করের চাপ কমবে।
এত দিন কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে বার্ষিক টার্নওভারের ওপর ১ শতাংশ হারে ন্যূনতম কর দিতে হতো। লাভ হোক বা লোকসান—টার্নওভারের ভিত্তিতে এই কর পরিশোধ করতে হতো। ফলে কম মুনাফার ব্যবসায় কার্যকর করহার বেড়ে যেত। এমনকি লোকসানে থাকা প্রতিষ্ঠানকেও কর দিতে হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
এই ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। একই দাবি জানায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
এনবিআর সূত্র জানায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর প্রথম তিন বছর পর্যন্ত ১ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ২ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেওয়ার সুযোগ আগে থেকেই রয়েছে।
আয়কর আইনের ১৬৩ ধারায় টার্নওভার করের বিধান রয়েছে। বিশেষ কিছু খাতে আলাদা হার প্রযোজ্য। সিগারেট, বিড়ি ও তামাকজাতীয় পণ্যে ৩ শতাংশ, কার্বোনেটেড বেভারেজ ও মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের ক্ষেত্রে আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের ক্ষেত্রে দেড় শতাংশ টার্নওভার কর রয়েছে। এসব খাত ছাড়া অন্যান্য ব্যবসার ক্ষেত্রে এত দিন ১ শতাংশ হার প্রযোজ্য ছিল। নতুন প্রজ্ঞাপনে সেই সাধারণ হারেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, টার্নওভার কর হলো কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাভের ওপর নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের মোট বিক্রি বা লেনদেনের পরিমাণের ওপর আরোপিত কর। ব্যবসাটি লাভ করেছে নাকি লোকসান করেছে, সেটি মূল বিষয় নয়। মোট টার্নওভার কত হয়েছে, তার ভিত্তিতেই কর নির্ধারিত হয়।
মন্তব্য করুন