মো: মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিম অঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (WZPDCL)। ‘মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (MIUEPDS)’ প্রকল্পের আওতায় একটি ১১ কেভি এআইএস (AIS) ইনডোর সুইচিং স্টেশন নির্মাণে টার্নকি ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করা হয়েছে।
শক্তি, বিদ্যুৎ ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের অধীন WZPDCL-এর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে গত ১৫ জুলাই ২০২৬ এ টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নকশা প্রণয়ন, সিভিল নির্মাণকাজ, প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ এবং কমিশনিং (চালুকরণ) কার্যক্রমের জন্য যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি One Stage Two Envelope Tender Method (OSTETM) পদ্ধতিতে WZPDCL-এর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত টেন্ডার নথি সংগ্রহ করতে পারবে। ১০ আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৩টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে এবং একই দিন দরপত্র খোলা হবে।
টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠোর কারিগরি ও আর্থিক যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ বছরের মধ্যে অন্তত ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা সমমূল্যের চুক্তিতে ১১ কেভি বা তার বেশি ভোল্টেজের সুইচিং স্টেশন অথবা ৩৩/১১ কেভি বা তার ঊর্ধ্বের সাবস্টেশন নির্মাণ, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ ও সফলভাবে চালুকরণের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্প চালুর অন্তত এক বছর পরও সন্তোষজনক কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে শেষ ব্যবহারকারীর প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।
দরপত্রের নিরাপত্তা জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ লাখ টাকা এবং টেন্ডার দলিলের মূল্য রাখা হয়েছে ৪ হাজার টাকা। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে কাজ শুরু হয়ে ২৪ এপ্রিল ২০২৮ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ১১ কেভি ইনডোর সুইচিং স্টেশন নির্মিত হলে মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা বাড়বে। ভোল্টেজের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন গ্রাহক সংযোগ ও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্ষুদ্র শিল্পসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় মনপুরার উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
মন্তব্য করুন