ইব্রাহিম আকতার আকাশ: দীর্ঘ ২৭ বছর কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন ভোলার বহুল আলোচিত দুলাল হত্যা মামলার আসামি কালু। ২০০০ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন তিনি। উচ্চ আদালতের রায়ে ফাঁসির সাজা পরিবর্তন হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হওয়ার পর সেই সাজাও ভোগ করেছেন কালু।
ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড। প্রায় ২৭ বছর আগে এই এলাকায় একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় রক্তক্ষয়ী ঘটনা।
২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল রাত। বিরোধপূর্ণ জমিতে দোকানঘর তোলাকে কেন্দ্র করে লতিফ মেম্বারের ছেলে কালু ও সোহরা আনোয়ারাব হোসেন ঢাড়ীর ছেলে দুলালের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
এসময় কালুর সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহযোগী রুহুল আমিনের ছেলে শাহাবুদ্দিন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুলাল ঢাড়ী।
ঘটনার পর ওই রাতেই দুলালের ভাই মিলন মেম্বার বাদী হয়ে কালু ও শাহাবুদ্দিনসহ মোট ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার পর পুলিশ হানিফসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। আর কালু, শাহাবুদ্দিনসহ অন্য আসামিরা পরবর্তীতে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত মামলার ১৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে মামলার ১৩ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও কালু ও শাহাবুদ্দিনের সাজা বহাল থাকে।
তবে পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে তাদের দুজনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর সেই সাজা ভোগ করেই কেটে যায় জীবনের প্রায় ২৭টি বছর। অবশেষে সোমবার, ১৭ আগস্ট সকালে ভোলা কারাগার থেকে মুক্তি পান কালু।
কারাগারের ফটকের বাইরে তখন অপেক্ষায় ছিলেন স্বজন ও স্থানীয়রা। দীর্ঘ কারাবাস শেষে কালু বেরিয়ে আসার পর তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে এই মামলার আরেক আসামি শাহাবুদ্দিন এখনো ভোলা কারাগারে রয়েছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, আরও কয়েক মাস কারাভোগ শেষে তিনিও মুক্তি পাবেন।
একটি হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ ২৭ বছরের কারাজীবন। সেই সময়ের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে কালুর মুক্তি যেমন তাঁর পরিবারের জন্য স্বস্তির, তেমনি পুরোনো সেই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিও নতুন করে সামনে এনেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাজা পরিবর্তন এবং প্রায় ২৭ বছর পর কারামুক্তি—সব মিলিয়ে ভোলার রাজাপুরের এই ঘটনাটি এখনো স্থানীয়ভাবে আলোচিত একটি অধ্যায়।
মন্তব্য করুন