ঢাকার কেরানীগঞ্জে নকল সার ও কীটনাশক জব্দ করা কারখানা থেকে মালামাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন হযরতপুর ইউনিয়নের চরজগন্নাথপুর এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় গিয়ে মালামাল চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হাসান-উজ-জামান ও কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুক। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা এনএসআই-এর তথ্য ও সার্বিক সহযোগিতায় র্যাব, পুলিশ ও উপজেলা কৃষি অফিসারের উপস্থিতিতে ওই কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান শুরুর সময় কারখানার কর্তৃপক্ষ বাইরে থেকে ৫ জন শ্রমিককে ভেতরে তালাবদ্ধ করে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয় এবং ভেতরে লুকিয়ে থাকা মো. জিয়াউর রহমান ইকবাল নামে এক মালিককে আটক করা হয়। তাকে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সার কারখানার অন্য ৭ অংশীদার— সাইদ, রহমান, আরাফাত, বাবু, মকবুল, আজাদ ও শাহীন পালিয়ে যায়।
কারখানাটিতে ডলোমাইট চুন, মাটি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে নকল টিএসপি সার, পশুখাদ্য এবং সিনজেন্টা, পদ্মা অয়েল, সিয়াম ক্রপ কেয়ারসহ বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক জাল করে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কার্বোফুরানসহ মারাত্মক ক্ষতিকর কীটনাশক তৈরি করা হতো। অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রস্তুতকৃত পণ্য ও কাঁচামাল জব্দ করে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে তৈরি পণ্য ধ্বংস ও কাঁচামাল নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কারখানাটির জমির মালিক 'ডিআইজি মিজান' ওরফে টুঙ্গীপাড়ার মিজান। ইতিপূর্বে ২০১৭ এবং ২০২১ সালেও একই কারখানায় অভিযান চালিয়ে নকল পণ্য ধ্বংস ও সিলগালা করা হয়। সম্প্রতি ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রশাসনের করার মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় কীভাবে কোটি টাকার জব্দকৃত মালামাল চুরি হলো, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ওমর ফারুক জানান, উপজেলা প্রশাসনের জব্দকৃত মালামাল চুরির ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর। এই অপকর্মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আইনগত ব্যবস্থা ও নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
মন্তব্য করুন