মনপুরা (উপজেলা) প্রতিনিধি: বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি লঞ্চঘাটের মধ্যে রামনেওয়াজ, হাজীরহাট ও জনতা লঞ্চঘাট অন্যতম। এর মধ্যে চরফ্যাশনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তুলনামূলক কম সময়ে যাতায়াতের জন্য জনতা লঞ্চঘাট গুরুত্বপূর্ণ।
জনতা লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন মনপুরা-চরফ্যাশনের বেতুয়া লঞ্চঘাটে চারবার লঞ্চ চলাচল করে। পাশাপাশি অসংখ্য স্পিডবোটও যাতায়াত করে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত মনপুরা ছাড়তে হলে স্থানীয়দের কাছে এই ঘাটের গুরুত্ব অনেক।
তবে ঘাটে পৌঁছানোর প্রধান সড়ক সিরাজগঞ্জ বাজার থেকে জনতা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ, মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন জরুরি রোগী ও তাঁদের স্বজনরা। কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চরফ্যাশন, ভোলা কিংবা দেশের অন্য কোথাও নিতে হলে প্রথমে এই সড়ক পাড়ি দিয়ে জনতা ঘাটে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু ভাঙাচোরা সড়কের কারণে সময়মতো ঘাটে পৌঁছানো নিয়েই তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মনপুরা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানকার মানুষের জন্য দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌপথে যাতায়াতের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকলেও ঘাটের সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে আসছে না।
তাঁদের দাবি, সড়কটির দুরবস্থার সঙ্গে শুধু সাধারণ যাতায়াত নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবার বিষয়ও জড়িত। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব বলেন, “রাস্তাটির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে রাস্তাটি পরিদর্শন করা হবে। সেখানে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়কটির সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এতে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি জরুরি রোগী পরিবহনসহ মনপুরার মানুষের নৌপথে যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
মন্তব্য করুন