চ্যানেল ভোলা: রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হওয়া সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন।
সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—মূল অভিযুক্ত মো. পারভেজ, ফয়সাল ওরফে কালু এবং আনোয়ার হোসেন বাবু।
মৃত রাফির চাচা নুর হোসেন চৌধুরী জানান, ঘটনার পর প্রথমে রাফিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাত সোয়া ১টার দিকে পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন রাফি। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে থামানোর চেষ্টা করে। তিনি না থামলে হামলাকারীদের একজন চলন্ত মোটরসাইকেলের দিকে ইট ছুড়ে মারেন। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে রাফি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর অভিযুক্তদের একজন চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে জানান যে রাফির ওপর ইট পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। পরে আহত রাফিকে অটোরিকশাযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই এটিকে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনা বলে ধারণা করেছিলেন। পুলিশও প্রথমে সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তবে পরবর্তী তদন্তে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারীরা রাফির পূর্বপরিচিত। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার সময় রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় কালু, পারভেজসহ কয়েকজন ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। রাফিকে একা পেয়ে তারা তাকে আটকের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে থামাতে ব্যর্থ হলে পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
পরে অভিযুক্তরাই আহত রাফিকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন