ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। শনিবারের কর্মসূচি ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কর্মসূচিকে ঘিরে বন্ধ রাখা হয়েছে একাধিক মেট্রো স্টেশন। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) নির্বাচনে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন তারা। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগান সামনে রেখে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি ও কয়েকটি ছাত্রসংগঠন। আয়োজকদের পরিকল্পনা ছিল, শনিবার সকাল ১০টায় দিল্লির কেন্দ্রস্থলে সমবেত হবেন সমর্থকেরা। তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও মতবিরোধের কথা সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, এর ফলে প্রকৃত ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার কারণ ও প্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
দিল্লি পুলিশের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের বিক্ষোভে দেওয়া শর্ত না মানার অভিযোগের কারণে শনিবারের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে সিজেপির নেতারা পুলিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। অনুমতি না পেলেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ২৩ হাজারের বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়।
বিক্ষোভস্থলে মানুষের সমাগম নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার রাত থেকেই বিভিন্ন বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিলের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি মেট্রোর একাধিক স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়।
বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত থেকে শনিবার রাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে এই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। আগামী ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর প্রদেশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে চলমান বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
মন্তব্য করুন