মিটার নেই, বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়নি। অথচ গ্রাহকের নামে এসেছে ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল। নতুন মিটারের জন্য আবেদন করার পর সংযোগ দেওয়ার আগেই এমন বিল পাওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের বাসিন্দা শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার।
এদিকে, মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরুর আগেই বিল তৈরির ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিলিং ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মুঠোফোনে বিষয়টি এনপিবি নিউজকে নিশ্চিত করেছেন জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম। এছাড়া এই রহস্যময় বিল আসার কারণও জানান তিনি।
দেখা গেছে, নিমাই চন্দ্র সরকারের বাসায় চারটি মিটার রয়েছে। নতুন মিটার স্থাপনের জন্য একটি ওয়্যারিং বোর্ডও তৈরি করা হয়েছে। তবে তার নামে মোট পাঁচটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ এসেছে। এর মধ্যে নতুন মিটারের নামে আগস্ট মাসের বিল ৬৯২ টাকা।
ভুক্তভোগী নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তার বাসায় দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। এর বাইরে আরও একটি মিটার সংযোগের জন্য তিনি আবেদন করেন। তবে নতুন মিটার স্থাপন কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই তার নামে ৬৯২ টাকা পরিশোধের জন্য একটি বিল আসে। বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেই কীভাবে বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মিটার ও সংযোগ ছাড়াই বিল আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সংযোগই যেখানে দেওয়া হয়নি, সেখানে ব্যবহারের বিল কীভাবে তৈরি হলো? বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মিটার ও সংযোগ ছাড়াই কীভাবে বিল তৈরি হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান বলেন, নিমাই সরকারের সঙ্গে কথা বলেই বিল করা হয়েছে। তবে মিটার বা সংযোগ না থাকলেও বিল করা যায় কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ভুল হয়ে গেছে।’
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম বলেন, মিটার নেই বা বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বিষয়টি এমন নয়। ঝড় বৃষ্টির কারণে মিটার ভেঙে গেলে এটি পরিবর্তনের জন্য ওই গ্রাহক আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার মিটারের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিং বসানোর জন্য জানানো হলে তিনি তাৎক্ষনিক নেন নি। এই আর্থিং বসানোর প্রক্রিয়ার জন্য একটি বিল ইস্যু হয়।
তিনি বলেন, এর আগে আমাদের পুরোনো সার্ভার সফটওয়্যারটি পরিবর্তনের কারণে বিলটি এভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়া মিটার বা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার পরেও বিল ইস্যু হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অযোক্তিক।
ওই বিদ্যুৎ কর্মকর্তা আরও বলেন, মিটারটিতে ক্রেডিট পরিবর্তনেরও একটি বিষয় ছিল। তিনি বাণিজ্যিক মিটার থেকে সম্ভবত আবাসিক মিটারে পরিবর্তন করার জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে আমাদের পরবর্তিত নতুন সফটওয়্যারে এধরণের বিষয়গুলোগে বাস্তবে কার্যকর দেখানো হয়। এবং মিনিমাম একটা বিল আকারে এটি প্রস্তুত করা হয়।
মন্তব্য করুন