মো. মামুন হাজী, লালমোহন: ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে সরকারি নিবন্ধিত জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও শতাধিক জেলে ভিজিএফের চাল না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকার জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দিলেও প্রকৃত অনেক কার্ডধারী সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
জেলেদের অভিযোগ, গভীর সমুদ্রে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে জীবিকা বন্ধ থাকায় সরকার প্রতিজন নিবন্ধিত জেলের জন্য ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের অনেক প্রকৃত জেলে সরকারি নিবন্ধিত জেলে কার্ড ও মাস্টাররোলে নাম থাকা সত্ত্বেও চাল পাননি। ইউনিয়ন পরিষদে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার বিপরীতে সরকার ৫৭ দিনের খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দিয়েছে। ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নে সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৫৫ জন হলেও চাল বরাদ্দ এসেছে মাত্র ১ হাজার জেলের জন্য। যার পরিমাণ ৭৭ দশমিক ৩৩ মেট্রিক টন।
ভুক্তভোগী জেলে মো. বাবুল বলেন, “গত ৫ আগস্টের পর থেকে আমি কোনো সরকারি চাল পাইনি। আমার নামে বৈধ জেলে কার্ড রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদে গেলে বলা হয়, এই কার্ডের চাল আগেই বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু আমার চাল কে নিয়েছে, তার কোনো জবাব কেউ দিতে পারেনি।”
আরেক জেলে আলী আহমদ বলেন, “আগে নিয়মিত জেলে কার্ডের চাল পেতাম। এখন চাল এলেও আমাদের দেওয়া হয় না। খোঁজ নিতে গেলে বলা হয়, আমাদের নামে কোনো বরাদ্দ নেই। তাহলে আমরা কেন সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি?”
একই অভিযোগ করেন জহুরুল হক ও রতন মাঝি। তারা বলেন, সরকারের সব নিষেধাজ্ঞা মেনে নদী ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও জেলে কার্ড ও তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে না। চাল চাইতে গেলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে চাল বিতরণের সুবিধাভোগীদের তালিকা (বেনিফিশিয়ারি লিস্ট) ও মাস্টাররোল দেখতে চাইলে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ এবং লালমোহন উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফরাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “আমরা নিয়ম মেনেই চাল বিতরণ করছি। তবে নিবন্ধিত জেলেদের তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এসেছে। তাই সবাইকে চাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।”
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, “কিছু অনিয়ম হয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, “কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন