মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) অনুমোদন ছাড়াই একটি ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ওই ইটভাটার ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণে প্রায় চার হাজার মানুষের ব্যবহৃত একমাত্র সেতুটি ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১২ জুলাই) সকালে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোকেশনাল সড়ক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় চার হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র সেতুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৩ সালে জনবসতির মাঝখানে এম আর এস আর ব্রিক ফিল্ড নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে ইটভাটার জন্য ব্যাপক হারে গাছ কাটার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে এলাকার পরিবেশ ও অবকাঠামোর ক্ষতি হচ্ছে। তাদের দাবি, অতিরিক্ত ভারী যানবাহনের চাপেই সেতুটি ভেঙে গেছে।
তারা আরও জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং আগের মতোই ভারী যানবাহনে কাঁচামাল ও ইট পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে এম আর এস আর ব্রিক ফিল্ড-এর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. মাকসুদ বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। সেতুটি আগে থেকেই ভাঙা ছিল। আমরা নিজেরাই সেটি মেরামত করে ওই পথ দিয়ে মালামাল পরিবহন করতাম।”
লাইসেন্সের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের শ্রম অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে। তবে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন এখনো নেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি সংস্কার, ইটভাটার বৈধতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন