আজকের Channel Bhola সংবাদ
Channelbhola
প্রকাশ : Jul 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অবৈধ শিকার ও বন ধ্বংসে হরিণশূন্য হয়ে পড়ছে মনপুরা



মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: মেঘনার বুকে জেগে ওঠা ভোলার মনপুরা একসময় ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্যপ্রাণীর এক অনন্য অভয়ারণ্য। বিস্তীর্ণ বনভূমি আর দলবেঁধে ঘুরে বেড়ানো চিত্রা হরিণ ছিল এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ। কিন্তু অবৈধ শিকার, বনাঞ্চল ধ্বংস ও মানুষের অবহেলায় আজ সেই মনপুরা প্রায় হরিণশূন্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১২২৬ সালে মেঘনার বুকে জেগে ওঠে মনপুরা দ্বীপ। মহন মাঝী নামে এক মাঝির নামানুসারে দ্বীপটির নামকরণ করা হয় ‘মনপুরা’। ১৯৭৩ সালে দ্বীপটির আয়তন ছিল প্রায় ১৪৮ বর্গকিলোমিটার। নদীভাঙনের কারণে ২০১০ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১১৪ বর্গকিলোমিটারে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, মূল দ্বীপ ও আশপাশের ছোট-বড় চরসহ মনপুরা উপজেলার প্রশাসনিক আয়তন ৩৭৩ দশমিক ১৯ বর্গকিলোমিটার।

উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তিনটি গেজেটভুক্ত বনাঞ্চলে বন বিভাগের মোট জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৭৯১ দশমিক ০৫ হেক্টর। এই দ্বীপে বিভিন্ন সময় জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা চিত্রা হরিণ নিরাপদ পরিবেশে বংশবিস্তার করে অল্প সময়েই সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। একসময় মনপুরার বনাঞ্চল, চরাঞ্চল এমনকি বিভিন্ন গ্রামেও হরিণের অবাধ বিচরণ ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা শুধু হরিণ দেখতেই মনপুরায় আসতেন। হরিণ ছিল এই দ্বীপের অন্যতম প্রাকৃতিক আকর্ষণ ও পর্যটনের প্রধান সম্পদ।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টে যেতে থাকে সেই চিত্র। অসাধু শিকারিদের অবাধ তৎপরতায় শুরু হয় হরিণ নিধন। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ শিকার চললেও কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে একের পর এক প্রাণ হারাতে থাকে নিরীহ বন্যপ্রাণী। একই সঙ্গে বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে হরিণের আবাসস্থলও ক্রমেই কমে আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় যে বন ও চরাঞ্চলে প্রতিদিন হরিণের পাল দেখা যেত, এখন সেখানে বছরের পর বছরেও একটি হরিণের দেখা মেলে না। ফলে মনপুরা হারিয়েছে তার অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটনের বড় আকর্ষণ।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, অবৈধ শিকার, বনাঞ্চল ধ্বংস এবং মনপুরার চারপাশে রিং বাঁধ নির্মাণের সময় ব্যাপক বনায়ন উজাড় হওয়ায় চিত্রা হরিণের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে চর পাতালিয়া ও বদনার চরে সীমিত সংখ্যক হরিণের বিচরণ রয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে দায়ের করা বন বিভাগের ৩৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান, অবৈধ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ এবং বনাঞ্চল পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে মনপুরা থেকে চিত্রা হরিণ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

1

মোদির ওপর চাপ বাড়ছে: রয়টার্স

2

ভোলায় ৪ দিন বন্ধ থাকবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক সেবা

3

জুলাই আন্দোলনে কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেই: জামায়াত আমির

4

মাদকের বড় চালানগুলো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশ দিয়েই

5

ভোলায় চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলায় ৪ আসামি গ্রেপ্তার

6

ব্যবসায়ীর অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, ভিডিও ভ

7

নাসীরুদ্দীন, সারজিসসহ ৯ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও হামলা

8

রাজস্ব নিয়ে জনগণের বিভ্রান্তি দূর করাই চ্যালেঞ্জ: প্রধানমন্ত

9

এসএসসি ফলাফল: এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ ফেল

10

নাহিদ কোনো ব্যক্তি নন, একটি ইতিহাস : ড. ইউনূস

11

সাপের কামড়ে চিকিৎসাধীন জেলে বাবলুর মৃত্যু

12

অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

13

এসএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

14

অনেক কিছুই আমার কাছে আছে, সময়মতো প্রকাশ্যে আনব

15

কিডনি বিক্রির ‘বকেয়া’ সাড়ে ৯ লাখ টাকা না পেয়ে মামলা

16

নাশকতা করার মতো সক্ষমতা নেই আ.লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

17

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান নিয়ে যা বললেন বিরোধীদলীয় নে

18

ভোলায় অবৈধ তেলের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড

19

ছাদ থেকে লাফিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

20