মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলার মনপুরা উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেড়িবাঁধের বাইরের একটি গুচ্ছগ্রাম জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৬০টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ঘরবাড়ি, উঠান ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর জোয়ারের পানিতে প্রতিদিনই গুচ্ছগ্রামটিতে পানি ঢুকে পড়ছে। ফলে ঘরের খাট, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানিতে ডুবে যাচ্ছে। রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঠিকমতো খাবার রান্না করতে পারছে না। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। বছরের পর বছর ধরে প্রতিটি জোয়ারে তারা একই দুর্ভোগের শিকার হলেও এবার পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মেগা প্রকল্পের আওতায় নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলমান থাকায় পুরোনো বেড়িবাঁধ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু নতুন বাঁধের নির্মাণকাজ এখনো শেষ না হওয়ায় কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই জোয়ারের পানি সরাসরি গুচ্ছগ্রামে প্রবেশ করছে। এতে প্রতিটি জোয়ারে বসতঘর, উঠান ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, "আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। কিন্তু উন্নয়নের কারণে যদি মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারাতে হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল আমাদের জন্য কোথায়? প্রতিটি জোয়ারে মনে হয় সবকিছু হারিয়ে ফেলব।"
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার, শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেগা প্রকল্পের আওতায় নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় গুচ্ছগ্রামের পরিবারগুলোকে স্থানান্তরের বিষয়টি তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। তবে স্থানান্তর কার্যকর না হওয়ায় বর্তমানে প্রায় ৬০টি পরিবার নতুন বেড়িবাঁধের বাইরে রয়ে গেছে। ফলে সামান্য জোয়ারেও পুরো এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে প্রতিটি জোয়ারে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
মন্তব্য করুন