নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে আলোচিত এ মৃত্যুর ঘটনার রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি। দীর্ঘ এক বছর পার হলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ জুন ভোলা থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ কর্ণফুলী-৪ থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন ২১ বছর বয়সী ইপ্সিতা। নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর লক্ষ্মীপুর সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ইপ্সিতা ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মাসুদ রানার মেয়ে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
ইপ্সিতার বাবা মাসুদ রানা অভিযোগ করেন, এক বছর পার হলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত না হওয়ায় পরিবারটি হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু আমার মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন চাই। সত্যটা জানতে চাই। যদি এ ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকে, তাহলে তাদের শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
ভোলা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ইপ্সিতার মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছে ছাত্রদল। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তারা আশা করছেন।
এ বিষয়ে পিবিআই নোয়াখালী বিভাগের বিভাগীয় উপপরিদর্শক (ডিআই) মো. কামাল আব্বাস বলেন, “ইপ্সিতার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত ১১ মে সরেজমিন তদন্তের জন্য ভোলায় গিয়ে বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যায়নি।”
এক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার অভিযোগপত্র জমা না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ইপ্সিতার স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন