জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২৪ আগস্ট) মো. নাহিদ ইসলাম তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এমন অভিযোগ করেন।
মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দাও, সংকট তৈরি হোক, এরপর বলো সরকারি খাত পারছে না—বেসরকারি অলিগার্কের হাতে লাইসেন্স তুলে দাও। পছন্দের সরবরাহকারীর হাতে জ্বালানি খাত তুলে দিতে নিখুঁত পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি দেওয়া এক বক্তব্যেও নাহিদ ইসলাম জ্বালানি খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও বাজারজাতের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগের সমালোচনা করেন। এ নিয়ে তাঁর বক্তব্য ও এনসিপির অবস্থান বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের অভিযোগ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বড় পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতের অনুমতি চেয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে। এরপর ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) মাত্র চার দিনের মধ্যে ‘বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া জমা দিতে বলে।
তিনি বলেন, ‘একটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নীতিমালার খসড়া তৈরির জন্য মাত্র চার দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ভিন্নমত দেওয়ার কারণে বিপিসির চেয়ারম্যানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ খাতে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হয় কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ীসহ দেশের সাধারণ মানুষকে।’
এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, জ্বালানি নিরাপত্তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হলে তা রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। দলটি জ্বালানি খাতের পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন