নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার খালিশপুর থানা এলাকার পুরাতন কলোনির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আলোচিত প্রতারণা মামলার আসামি করিম কাজীকে ঢাকায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করিম কাজী খুলনার খালিশপুর থানা এলাকার পুরাতন কলোনির মৃত হাচেন কাজীর ছেলে।
মামলা ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত করিম কাজী ভোলা জেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বাবুলকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। পরে বিদেশে না পাঠিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী শিউলী বেগম ২০২৫ সালের ১২ মে ভোলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর সিআর ৪৩৫/২৫
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তবে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের নির্দেশনায় সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরে আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে মুগদা হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে।
একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, করিম কাজীর বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে খুলনায় একাধিক রাজনৈতিক ও চাঁদাবাজির মামলাও রয়েছে বলে সূত্রটি দাবি করেছে। তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে খুলনার খালিশপুর এলাকার অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নুরে আলম বলেন, “আদালত থেকে সবুজবাগ থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা পৌঁছানোর পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে মুগদা হাসপাতাল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
মামলার বাদী পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে তাকে গ্রেফতার করায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
মন্তব্য করুন