মো. সবুজ, ভোলা: ভোলার মনপুরায় মডেল মসজিদের ভেতরে কলেজ অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়াকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজারসংলগ্ন নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জানা গেছে, গত রাতে চাকরিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় সেলিম ও তার ভাই মো. রুবেলসহ কয়েকজন মডেল মসজিদের ভেতরে ঢুকে অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন মিয়ার ওপর হামলা করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে মসজিদে থাকা মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি ভোলার নাজিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মনপুরার মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিক্ষক জাতি গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানান তারা।
এদিকে, ঘটনার পর সোমবার সকালে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মনপুরা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সেলিম আগে মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যরা অধ্যক্ষকে কয়েক দফা হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে অধ্যক্ষ মনপুরা থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এঘটনায় অভিযুক্ত সেলিম ও তার ভাই মো. রুবেলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মিয়াকে মারধরের অভিযোগে ৮ জনকে আসামি করে থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন