আজকের Channel Bhola সংবাদ
Channelbhola
প্রকাশ : Jun 29, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতায় অনিশ্চয়তায় মনপুরার আমন চাষ

 

Brother IT Digital

মো. মেহেদী হাসান, মনপুরা: ভোলা জেলার মনপুরায় চলতি আমন মৌসুমে লবণাক্ততা ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কৃষিজমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এবং নদীর লবণাক্ত পানির প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমন চাষাবাদ। সময়মতো চারা রোপণ করতে না পারার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা। বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে থৈথৈ পানি। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে রয়েছে কৃষিজমিতে। অনেক কৃষক এখনও আমনের বীজ বপণ করতে পারেননি। অন্যদিকে যেসব জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো লবণাক্ত পানির প্রভাবে হলুদ হয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাল দিয়ে নদীর লবণাক্ত পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করে জমির উর্বরতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “প্রতি বছর একই সমস্যায় পড়তে হয়। পানি না নামায় সময়মতো চারা লাগাতে পারি না। আবার লবণাক্ততার কারণে ধানের ফলনও কমে যায়। অনেক টাকা খরচ করেও লাভ হয় না। আমরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”

স্থানীয়দের দাবি, নতুন বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ চলমান থাকায় আগের পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। পাশাপাশি অনেক স্লুইসগেট অকার্যকর থাকায় নদীর লবণাক্ত পানি সহজেই কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে। তাদের মতে, খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখনন, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং স্লুইসগেট সংস্কার করা হলে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতিও কমবে।

আরেক কৃষক বলেন, “প্রতি বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে। ঋণ করে চাষ করি, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলন পাই না। সরকার যদি স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে, তাহলে আমরা নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করতে পারব।”

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আহসান তাওহীদ বলেন, মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

মনপুরার অধিকাংশ মানুষের জীবন-জীবিকা কৃষিনির্ভর। কিন্তু প্রতিবছর লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তাই কৃষকদের প্রত্যাশা, সাময়িক নয়, বরং খাল পুনঃখনন, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, স্লুইসগেট সংস্কার এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বাস্তবায়ন করা হোক। তাহলেই রক্ষা পাবে কৃষি, বাঁচবে কৃষকের স্বপ্ন।


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

1

জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বললেন রাকসু নেতা

2

নাহিদ কোনো ব্যক্তি নন, একটি ইতিহাস : ড. ইউনূস

3

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা

4

মিশরের গোলে খুশি হওয়ায় ব্রাজিল সমর্থকের নাক ফাটালো আর্জেন্টি

5

ভয়াবহ বন্যা: যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দিশেহারা নেপাল

6

‘আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি’

7

লালমোহনে খাল থেকে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

8

কেন্দ্রীয় নেতাদের দিল্লীতে ডেকেছেন হাসিনা

9

তাসরিফের ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ গান ভাইরাল, শুরু হলো আইনি পদক্

10

বন্যায় ভেসে গেল খামারের ৯০০ সাপ, লোকালয়ে আতঙ্ক

11

ভোলায় নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, আটক ১

12

মদের বার থেকে মসজিদ: মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত জিয়া বিন রাস

13

প্রেসক্রিপশন ছাড়াই যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমা

14

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে

15

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সম্মানি ভাতা বাড়ল

16

স্বামীকে খুন করে ৬ টুকরা, স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

17

ভোলা জেলা পরিষদে চাকরির সুযোগ

18

২৭ বছর পর জেল থেকে বের হচ্ছেন ভোলার সেই কালু

19

নতুন নিয়মে জমির নামজারি, লাগবে যেসব কাগজপত্র

20