চ্যানেল ভোলা: ভোলা সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন কাচিয়া কাচিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদীতে মায়ের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে মো. শামীম (৫) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নৌ-পুলিশের একটি দ্রুতগতির স্পিডবোটের সৃষ্ট তীব্র ঢেউয়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায় শিশুটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরচরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শামীম ওই এলাকার জেলে আব্দুল জলিল নয়ন ও মনি দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে।
জানা গেছে, সকালে জোয়ারের সময় শামীম তার মায়ের সঙ্গে মেঘনা নদীর তীরে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে শামীমের মা ভেজা কাপড় পরিবর্তনের জন্য নদীর তীর থেকে ওপরে উঠে যান। এ সময় শিশুটি নদীর তীরেই গোসল করছিল।
পরিবারের অভিযোগ, এর মধ্যে ইলিশা লঞ্চঘাটের দিক থেকে নৌপুলিশের সদস্যদের বহনকারী একটি দ্রুতগতির স্পিডবোট নদীর কূল ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে, দৌলতখানের দিকে যাচ্ছিল। স্পিডবোটটি যাওয়ার সময় সৃষ্ট তীব্র ঢেউয়ের কবলে পড়ে শামীম নদীতে তলিয়ে যায়।
প্রায় ৩ থেকে ৫ মিনিট পর শামীমের মা নদীর তীরে এসে ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা নদীতে নেমে এবং আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়েও শিশুটির সন্ধান পাননি।
শামীমের বাবা আব্দুল জলিল নয়ন বলেন, ‘সকালে জোয়ারের সময় আমার স্ত্রী ও ছেলে নদীতে গোসল করছিল। স্ত্রী উপরে উঠে আসার পর নদীর তীর থেকে ছেলে নৌপুলিশের স্পিডবোটের ঢেউয়ে নদীতে ডুবে গেছে। সকাল থেকে ঘটনাস্থল ও আশপাশে খোঁজ করেও তাকে পাচ্ছি না। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। তবে দুপুর পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেনি।’
এ বিষয়ে ইলিশা নৌথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকে নৌপথের সার্বিক নিরাপত্তায় আমাদের অভিযান চলছে। কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় ইতোমধ্যে একজন জেলেকে আটক করা হয়েছে। শিশু নিখোঁজের বিষয়টি জানতে পেরেছি। শিশুটির খোঁজ নিতে এবং উদ্ধারের জন্য আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।’
মন্তব্য করুন