চ্যানেল ভোলা : দেশের চরাঞ্চলগুলোতে দীর্ঘদিনের ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি আর চলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া সনদের মাধ্যমে বিত্তশালীদের খাস জমি দখলের দিন শেষ হতে চলেছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের উত্থাপিত জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে খাস জমি চিহ্নিতকরণ ও অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চরফ্যাশন ও মনপুরার প্রকৃত পরিস্থিতি দেখতে তিনি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শনে যাবেন।
কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির আওতায় বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, সরকারি হিসাবে দেশে প্রায় ৩৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৪ একর খাস জমি রয়েছে। তবে এর বড় একটি অংশ প্রভাবশালীদের দখলে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৬ বছরে চরফ্যাশন ও মনপুরায় নদীভাঙা ও ভূমিহীন মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রকৃত ভূমিহীনদের জমি দখল করেছেন। এ সময় তিনি প্রকৃত ভূমিহীনদের তথ্যভান্ডার (ডিজিটাল ডাটাবেজ) তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে চান।
জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা-২০২৪ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সারা দেশে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চলছে। চরফ্যাশন ও মনপুরা সফরের মাধ্যমে স্থানীয় অনিয়ম দূর করে স্বচ্ছ ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
আলোচনা শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ খাস জমি উদ্ধারে সব সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে ভোলা-৩ আসনে ২০ হাজার ভূমিহীন কৃষকের মধ্যে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তজুমদ্দিন স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে জমির দলিল তুলে দিয়েছিলেন। খাস জমি বিতরণ কর্মসূচি সফল করতে সংসদ সদস্যদের আন্তরিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্পিকার। পাশাপাশি ভূমিমন্ত্রীর ভোলা সফরে সুযোগ হলে তিনিও অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন