জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে কুরুচিকর পোস্ট ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সাবেক ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট মারুফ খান মুন্না নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে অভিনেত্রী বাঁধনকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত নম্বর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাঁধন। সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ‘যখন কোনো দল বলে, তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে। অথচ একই সময়ে তাদের সমর্থকরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে। হয়রানি করে। এমনকি এখন ফেসবুক আইডি থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে?’
বিজ্ঞাপন
কারও অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া আইনগত অপরাধ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়। এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ভয় দেখানো, আতঙ্ক তৈরি করা কিংবা আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা তোমাদের জন্যও যে পরিণতি ডেকে আনতে পারে সেটা মনে রাখা ভালো।’
পোস্টে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাক এত সহজে দমানো যাবে না। বাঁধন লেখেন, ‘আমাকে ভয় দেখিয়ে আতঙ্কিত করে ফেলা সম্ভব না। সেখানে নিয়ে যেতে হলে তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। তোমরা যা ইচ্ছা করো। শুধু একটা কথা মনে রেখো— আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনও নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি। নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য। ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে। তাই ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর হ্যাঁ, মনে রেখো আমি ডাইনি।’
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন বাঁধন।
মন্তব্য করুন