ইব্রাহিম আকতার আকাশ: বান্দরবানের রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পাহাড়ের খাদে পড়ে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বাসিন্দা জমির উদ্দিন (৩২) ও ঢাকার লালবাগ এলাকার রোকাইয়া আক্তার (৩০) এর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে একটি প্রশ্ন—জমিরের সঙ্গে থাকা ওই তরুণী আসলে কে?
দুর্ঘটনার পর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ে। কেউ বলছেন, রোকাইয়া ছিলেন জমিরের স্ত্রী। আবার কেউ দাবি করেন, তিনি জমিরের প্রেমিকা। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি।
এরই মধ্যে 'গিরগিটি বাইকার' নামে পরিচিত এক মোটরসাইকেল ভ্রমণকারী শুক্রবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, রোকাইয়া আক্তার জমিরের স্ত্রী বা প্রেমিকা ছিলেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিরের বন্ধু আলিফ ও তার স্ত্রীও ওই মোটরসাইকেল ট্যুরে অংশ নিয়েছিলেন। রোকাইয়া আক্তার ছিলেন আলিফের স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। একসঙ্গে ভ্রমণে যাওয়ার কারণে আলিফ ও তার স্ত্রীর অনুরোধেই জমির নিজের মোটরসাইকেলে রোকাইয়াকে নিয়ে কেওক্রাডংয়ের দিকে যান।
ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, জমির উদ্দিন সম্প্রতি বিয়ে করেছিলেন এবং তার স্ত্রী বর্তমানে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পর্ক নিয়ে যেসব গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে গিরগিটি বাইকারের এই বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এ বিষয়ে পুলিশ, প্রশাসন বা নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে রুমা-কেওক্রাডং সড়কের বগালেক ভিউ পয়েন্টসংলগ্ন গভীর খাদ থেকে জমির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে ১০ জন পর্যটক ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা রুমা উপজেলার বগালেক এলাকায় পৌঁছে একটি কটেজে ওঠেন।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সবাই বগালেক ভিউ পয়েন্টে ঘুরতে যান। ছবি তোলা শেষে আটজন ফিরে এলেও জমির ও রোকাইয়া গাইডের নিষেধ অমান্য করে মোটরসাইকেলে সামনে এগিয়ে যান। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে গাইড বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানান।
সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে রাত প্রায় ১১টার দিকে ভিউ পয়েন্টসংলগ্ন খাদ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও দাবি ছড়িয়ে পড়লেও, নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন