চ্যানেল ভোলা : রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালীতে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কারণে পাঁচ শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের মাচালং ও বাগাইহাটসহ একাধিক এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে মঙ্গলবার সাজেকে ভ্রমণে গিয়ে অবস্থান করা পর্যটকরা নির্ধারিত সময়ে খাগড়াছড়িতে ফিরতে পারেননি।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, মঙ্গলবার সাজেকে আসা পর্যটকদের বুধবার সকালে খাগড়াছড়িতে ফেরার কথা ছিল। তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি থাকায় আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং পানি নেমে গেলে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিরূপ আবহাওয়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রশাসন সাময়িকভাবে সাজেকে নতুন পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ফলে বুধবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকগামী কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি ছেড়ে যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় পর্যটক চলাচল শুরু হবে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি ঘোষণায় জানানো হয়েছে, অতিবৃষ্টির কারণে মাচালং ও বাগাইহাট এলাকার কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বুধবার সকালের সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বহর (কনভয়) স্থগিত করা হয়েছে।
ঘোষণায় আটকে পড়া পর্যটকদের দুপুর পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়। বিকালের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা বহরের মাধ্যমে তাদের খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হবে। আর বিকালেও যাতায়াত সম্ভব না হলে বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রশাসনের নিরাপত্তা বহরের সঙ্গে পর্যটকদের সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে।
এছাড়া পর্যটকরা আগের রাতে যে রিসোর্টে অবস্থান করেছিলেন, সেখানেই ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রিসোর্ট মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে অবস্থানকারী পর্যটকদের কাছ থেকে শুধুমাত্র পানির খরচ নেয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো কক্ষভাড়া আদায় না করতে।
স্থানীয় প্রশাসন ও কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেক জানিয়েছে, আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।