এনজিও থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন হাঁস পালন। নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে হাঁস চরিয়ে ৭ বছরের পরিশ্রমে সেই ছোট উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে সফল খামারে।
বলা হচ্ছে, নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের হবুর মোড় গ্রামের আতাউর রহমানের কথা। বর্তমানে প্রতিদিন ডিম বিক্রি করেই আয় করছেন প্রায় ৭ হাজার টাকা। খাবার ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ থাকছে প্রায় ৩ হাজার টাকা।
আতাউর রহমানের উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুর পথটা সহজ ছিল না। বড় কোনো পুঁজি না থাকায় এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে হাঁস পালন শুরু করেন তিনি। প্রথম দিকে বিভিন্ন নদী, বিল ও জলাশয়ে হাঁসের পাল নিয়ে ঘুরে ঘুরে খামার পরিচালনা করতেন। প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করে হাঁস পালন করায় তার উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম ছিল।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের ফলে বাড়তে থাকে হাঁসের সংখ্যা। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৮৫০টি হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন এসব হাঁস থেকে পাওয়া ডিম বিক্রি করে প্রায় ৭ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এর মধ্যে হাঁসের খাবার ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় ৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টাকা লাভ থাকে তার। সে হিসাবে মাসে নিট আয় দাঁড়ায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
হাঁস পালন করে আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে আতাউর রহমানের জীবনযাত্রাও। নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে দুই বিঘা জমি কিনেছেন তিনি। নির্মাণ করেছেন নতুন ভবন। পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচও বহন করছেন নিজের আয়ে।
আতাউর রহমানের তিন ছেলে। বড় ছেলে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে মাদ্রাসার শিক্ষকতা করছেন। মেজো ছেলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বাবার খামার পরিচালনায় সহযোগিতা করছেন। ছোট ছেলে সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
নিজের সফলতার বিষয়ে আতাউর রহমান বলেন, ‘সঠিক নিয়ম মেনে যত্ন নিলে এবং পরিশ্রম করলে হাঁসের খামারে লস হওয়ার সুযোগ কম। এনজিওর সেই ৫০ হাজার টাকাই আজ আমাকে স্বাবলম্বী করেছে।’
একসময় সামান্য ঋণ নিয়ে শুরু করা আতাউর রহমানের সেই উদ্যোগ এখন এলাকার অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ। সঠিক পরিকল্পনা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে শূন্য থেকেও সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, তা নিজের জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন এই খামারি বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন