হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে চলাচলকারী হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা এবং পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে আগামীকাল ১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল এ ঘোষণা দেন।
আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময় বাস চলাচলে বাধা, যানবাহন ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ গত ১১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে যাওয়া হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ কারণে আগামী ১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ধর্মঘট চলাকালে হবিগঞ্জ জেলার সড়কগুলোতে কোনো ধরনের গণপরিবহন চলাচল করবে না। বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের বিরোধ এর আগেও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে অবরোধ কর্মসূচিও পালন করেছিলেন হবিগঞ্জের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দুই পক্ষের বিরোধ নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই বৈঠকে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল।
তবে এরপরও বাস আটকের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। তাদের অভিযোগের বিষয়ে মৌলভীবাজারের সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ১ অক্টোবর থেকে ধর্মঘট শুরু হলে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে হবিগঞ্জ থেকে সিলেট, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধের দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা।
মন্তব্য করুন