জুলফিকার তালুকদার, চরফ্যাশন: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চরমানিকা ইউনিয়নের মাইনকা ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচিত মো. জসিম কয়েকদিন পলাতক থাকার পর স্থানীয় মুসল্লিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনটি মসজিদের মুসল্লিরা মিছিল করে পার্শ্ববর্তী কোল্লার দোকান বাজারে যান।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে এ ঘটনা ঘটে। জসিম মাইনকা এলাকার আলী হোসেন জমাদারের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আইচা এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার হয়েছে। স্থানীয় যুবসমাজ মাদক সেবন ও কারবারের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। এ কার্যক্রমে স্থানীয় ছাত্র নেতা ইঞ্জিনিয়ার সোহেলের নেতৃত্বে যুবকদের ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
শুক্রবার জুমার নামাজের আগে আমির ফরাজী বাড়ির মসজিদে চরমানিকা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রিয়াজ ফরাজী মুসল্লিদের সামনে জসিমের আত্মসমর্পণের বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে ছাত্র নেতা ইঞ্জিনিয়ার সোহেল মুসল্লিদের জানান, দুপুর ১টার দিকে পলাতক জসিম তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় মুসল্লিদের কাছে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
জুমার নামাজ শেষে জসিম মসজিদে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় মুসল্লিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তিনি ভবিষ্যতে মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং নিজের ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান।
পরে আশপাশের তিনটি মসজিদের মুসল্লিরা জসিমকে সঙ্গে নিয়ে মিছিল করে কোল্লার দোকান বাজারে যান। সেখানে হ্যান্ডমাইকে জসিম আবারও সবার কাছে ক্ষমা চান এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, মাদক সেবনকারী ও মাদক কারবারে জড়িতরা পলাতক থাকলেও একসময় পুলিশের হাতে আটক হবে। জসিমের আত্মসমর্পণের বিষয়টি তিনি শুনেছেন বলেও জানান।
মন্তব্য করুন